২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সীমান্তে কড়া নজরদারির মধ্যেই মালদহ জেলায় ধরা পড়ল দুই বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী। শুক্রবার সীমান্ত টপকে এপারে ঢোকার সময় বিএসএফ-এর (BSF) হাতে ধরা পড়ে তারা। ভোটের মুখে এই ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঠিক কী? বিএসএফ সূত্রে খবর, মালদহ জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনকভাবে দু’জনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। জওয়ানরা তাদের তাড়া করে পাকড়াও করে। ধৃতদের কাছ থেকে কোনও বৈধ পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। জেরায় তারা স্বীকার করে যে, তারা বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং কাজের সন্ধানে বা অন্য কোনও উদ্দেশ্যে কাঁটাতার ডিঙিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।
নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: রাজ্যে প্রথম দফার ভোট শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে মালদহ, যা অনুপ্রবেশের জন্য অতি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত, সেখানে ড্রোন এবং অতিরিক্ত টহলদারির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর মধ্যেই এই গ্রেফতারি সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: ভোটের মুখে অনুপ্রবেশের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি শিবিরের দাবি, অনুপ্রবেশকারীরা ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করছে অথবা নির্বাচনের আগে শান্ত বাংলাকে অশান্ত করার ছক কষছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি— সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব বিএসএফ-এর তথা কেন্দ্রের। বারবার অনুপ্রবেশ কেন ঘটছে, সেই দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি: ধৃত দুই বাংলাদেশীকে ইতিমধ্যেই মালদহ জেলা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ। তারা কী উদ্দেশ্যে ঢুকেছিল এবং তাদের স্থানীয় কোনও লিঙ্কম্যান সাহায্য করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
নির্বাচনের আগে মালদহের এই ঘটনা নিয়ে এখন থমথমে ভাব সীমান্ত এলাকাগুলোতে। জওয়ানদের তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে।





