সম্প্রতি বক্স অফিসে ঝড় তোলা আদিত্য ধরের স্পাই-থ্রিলার ‘ধুরন্ধর ২: রিভেঞ্জ’ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্ক। সিনেমায় ‘বড়সাহেব’ নামক এক খলচরিত্রের চালচলন এবং শারীরিক মিল পাকিস্তানের মাটিতে গা ঢাকা দিয়ে থাকা মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ডি-কোম্পানি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ছবির ব্যাপক সাফল্যের পর মুম্বইতে ফের নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই আন্ডারওয়ার্ল্ড চক্র।
সিনেমা বনাম বাস্তবতা
যদিও পরিচালক আদিত্য ধর জানিয়েছেন যে, ছবিটি একটি কাল্পনিক কাহিনী মাত্র, তবে সিনেমাটিতে দেখানো কিছু ঘটনা বাস্তব আন্ডারওয়ার্ল্ডের সমান্তরালে চলে। বিশেষ করে, করাচিতে বসে পাকিস্তান ও আইএসআই-এর মদতে কীভাবে এই নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়, তা উঠে এসেছে বড় পর্দায়। এটিই ডি-কোম্পানির অস্বস্তির মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মুম্বইয়ে নতুন করে সক্রিয়তা?
ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) রিপোর্ট অনুযায়ী, ধুরন্ধর ২ মুক্তির পর থেকেই মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডে অদ্ভুত কিছু নড়াচড়া লক্ষ্য করা গেছে। মুম্বইতে ফের তাদের পুরনো গ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার গোপন চেষ্টা চালাচ্ছে দাউদ বাহিনী। নতুন সদস্য নিয়োগ এবং নেটওয়ার্ক তৈরির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দাউদের বিশ্বস্ত শ্যুটার মুন্না ঝিঙ্গাদাকে।
কারা নজরদারিতে?
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, শুধু দাউদ ইব্রাহিমই নয়, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী—ছোঁয়া শাকিল, আনিস ইব্রাহিম, জাভেদ চিকনা এবং টাইগার মেমনের মতো কুখ্যাত নামগুলোকেও বিশেষভাবে ট্র্যাক করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এদের আনাগোনা সম্পর্কে গোয়েন্দারা নিয়মিত নজর রাখছেন।
এই সিনেমাকে ঘিরে ডি-কোম্পানির এই ‘অস্বস্তি’ আসলে মুম্বইয়ের সুরক্ষার জন্য কোনো বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মুম্বই পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।





