বিশ্বজুড়ে ১ জুন পালিত হয় ‘বিশ্ব পিতামাতা দিবস’। জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মা-বাবা কেবল আমাদের জন্মদাতা নন, বরং তারা আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক এবং শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক। ভারতীয় সংস্কৃতিতে মা-বাবাকে ঈশ্বরতুল্য মনে করা হয়, ‘মাতৃদেবো ভবঃ, পিতৃদেবো ভবঃ’—এই মন্ত্রই আমাদের সভ্যতার মূল ভিত্তি। মা তাঁর মমতা দিয়ে জীবন গড়েন, আর বাবা তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও অনুশাসনের ছায়ায় আমাদের আগামীর জন্য প্রস্তুত করেন।
বর্তমানে প্রযুক্তির জয়জয়কার এবং ব্যস্ত জীবনে মানবিক সম্পর্কের রসায়ন ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। একল পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধে ভাটা পড়ছে, যার ফলস্বরূপ বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা। অথচ, আমাদের অস্তিত্বের শিকড় তাঁরাই। আজকের দিনে আমাদের শপথ নেওয়া উচিত, কেবল আনুষ্ঠানিকতায় নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, সময় এবং ভালোবাসা অটুট রাখার। ২০২৬ সালের এই দিবসের মূল উপজীব্য ‘माता-पिता के लिए एक साथ’ বা ‘পিতামাতার জন্য একত্রিত হওয়া’। এই বার্তার মাধ্যমেই সমাজ, সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে যেন তাঁরা পিতামাতার ভূমিকা বুঝতে পারেন এবং তাঁদের বার্ধক্যকে সম্মানজনক ও নিরাপদ করে তোলেন। আসুন, আধুনিকতার প্রতিযোগিতায় নিজের মূল্যবোধ না হারিয়ে, মা-বাবার প্রতি যত্নশীল হই। মনে রাখবেন, মা-বাবা কেবল অতীতের স্মৃতি নন, তাঁরা বর্তমানের শক্তি এবং ভবিষ্যতের চিরন্তন প্রেরণা।





