বিহারের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পাটনার ১০ সার্কুলার রোডের সরকারি বাংলো। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীকে এই বাংলো খালি করার জন্য প্রশাসনের তরফে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি খালি করব না, প্রয়োজনে পুলিশ ডেকে দখলমুক্ত করুন।” এই বাংলোটি বর্তমানে বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী নন্দ কিশোর রামকে বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ঘিরেই শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র সংঘাত।
আরজেডি নেতা আব্দুল বারি সিদ্দিকী সরকারের বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত নীতি’র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, রাবড়ি দেবীকে নোটিশ দেওয়া হলেও অনেক প্রভাবশালী নেতা নিয়ম ভেঙে সরকারি বাংলো দখল করে আছেন। তিনি নীতীশ কুমার, জিতন রাম মাঞ্জি, সঞ্জয় ঝা-সহ একাধিক নেতার বাংলো বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও রাবড়ি দেবীকে ইতিমধ্যে বিকল্প হিসেবে হার্ডিঞ্জ রোডে ৩ একরের একটি বিশাল বাংলো বরাদ্দ করা হয়েছে, তবুও তিনি ১০ সার্কুলার রোড ছাড়তে নারাজ।
তৃণমূল স্তরে এই বিতর্ক এখন নতুন মোড় নিয়েছে। যেখানে বিজেপি মন্ত্রী নন্দ কিশোর রামকে দ্রুত নতুন বাংলো দেওয়ার প্রয়োজনীতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আরজেডি, সেখানে রাবড়ি পরিবারের অনড় মনোভাব বিহারের প্রশাসনিক মহলে এক অচলবস্থার সৃষ্টি করেছে। ১০ সার্কুলার রোড যেন এখন ক্ষমতার লড়াইয়ের নতুন আখড়া, যেখানে সরকারি নির্দেশ আর ব্যক্তিগত জেদের লড়াইয়ে আটকে পড়েছে বিহারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।





