মিষ্টিপ্রিয় বাঙালির কাছে রসগোল্লা মানেই আবেগ। কিন্তু এই সাধের মিষ্টিই যে পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের অ্যাপোলো হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডঃ সুধীর কুমারের কাছে আসা ৩৫ বছর বয়সী এক যুবকের ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাত্র পাঁচ-ছ’টি রসগোল্লা খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ওই ব্যক্তির হাত-পা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তিনি সাময়িকভাবে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন।
কী এই রহস্যময় রোগ?
প্রাথমিকভাবে এটি বিষক্রিয়া মনে হলেও ডঃ কুমার জানান, এটি আসলে এক বিরল স্নায়বিক পরিস্থিতি, যার নাম ‘হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস’ (HPP)। এটি ঘটে মূলত উচ্চ শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের ফলে। রসগোল্লার মতো মিষ্টি খাওয়ার পর শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ইনসুলিন রক্তপ্রবাহ থেকে পটাশিয়ামকে কোষের ভেতরে ঠেলে দেয়, ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা মারাত্মক কমে যায় (২.৮ mEq/L)। পটাশিয়ামের এই ঘাটতিই পেশিগুলোকে অসাড় বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে তোলে।
নেপথ্যে লুকিয়ে অন্য ঘাতক:
তদন্তে দেখা যায়, ওই যুবক গত ছয় মাসে তিনবার এমন পক্ষাঘাতের শিকার হয়েছেন। ডঃ কুমারের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে, রোগীর নাড়ির গতি অত্যন্ত বেশি এবং ঘাড় ফোলা। থাইরয়েড পরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি ‘হাইপারথাইরয়েডিজমে’ আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, এই থাইরয়েড সমস্যার কারণেই ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়ায় পটাশিয়ামের ভারসাম্য বিগড়ে যাচ্ছে। এর আগে ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও জিলিপি-রাবড়ি খাওয়ার পর একইভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছিলেন।
সাবধানতা ও সমাধান:
ডঃ কুমার জানিয়েছেন, তরুণ এশীয় পুরুষদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ভারী খাবার বা প্রচুর মিষ্টি খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি হাত-পা অবশ লাগে, তবে অবিলম্বে পটাশিয়াম এবং থাইরয়েড পরীক্ষা করানো উচিত। সঠিক সময়ে পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট এবং হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা করালে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি সম্ভব। সচেতন থাকলে প্রাণের প্রিয় মিষ্টি ত্যাগ না করেও সুস্থ জীবন কাটানো যায়।





