সরকারি হাসপাতাল থেকে অভিনব কায়দায় দামি চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ল্যাব টেকনিশিয়ানের পরিচয় দিয়ে অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থেকে এক পেশাদার চোরকে গ্রেফতার করেছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম সমীর মণ্ডল।
গত ৩রা এপ্রিল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষ্ণুপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে জানানো হয়, গত ১লা এপ্রিল এক ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি মেরামতকারী টেকনিশিয়ান পরিচয় দিয়ে হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগে প্রবেশ করে। সেখান থেকে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত অত্যন্ত দামি যন্ত্রপাতির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি করে সে পালিয়ে যায়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।
তদন্ত শুরু করে পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে চোরকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে। অবশেষে, চোরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের কাছে চৌহাটি রাজপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে সমীর মণ্ডল নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
চোরের ‘টেকনিক্যাল’ হাত
ধৃত সমীর মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। একসময় ওই ব্যক্তি অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত অত্যন্ত দামি ল্যাপারোস্কোপি যন্ত্র মেরামতির কাজ করত। সেই সুবাদে এই যন্ত্র সম্পর্কে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা ছিল। সম্প্রতি সে সেই কাজ ছেড়ে দেয় এবং বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এই যন্ত্রের বিভিন্ন অংশ চুরিতে হাত পাকায়। তার এই ‘টেকনিক্যাল’ জ্ঞানই তাকে এই ধরনের চুরি করতে সাহায্য করত।
রাজ্যজুড়ে একই কায়দায় চুরি!
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ধৃত সমীর মণ্ডল স্বীকার করেছে যে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে চুরির আগেও সে একই কায়দায় রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালে চুরি করেছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ডোমকল, ঝাড়গ্রাম, কালনা এবং কান্দি থানা এলাকার সরকারি হাসপাতালগুলো থেকেও সে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি করে সেগুলো চোরাই বাজারে বিক্রি করেছে।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এই চক্রে আর কেউ যুক্ত আছে কিনা। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই বিষয়ে আরও বিশদ তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে বলে বিষ্ণুপুর থানা সূত্রে জানানো হয়েছে। এই ঘটনা সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।





