বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড়সড় ওলটপালটের ইঙ্গিত দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে রুশ ও ইরানি অপরিশোধিত তেলের ওপর যে সাময়িক ছাড় (waiver) দেওয়া হয়েছিল, তা এবার পাকাপাকিভাবে তুলে নিচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একটি সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার ছাড় এই সপ্তাহেই শেষ হচ্ছে। একইসঙ্গে রুশ তেলের ওপর দেওয়া ছাড়ের মেয়াদও এই সপ্তাহান্তেই ফুরোবে এবং তা আর নবীকরণ করা হবে না। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে, ১১ মার্চের আগে যে তেল সমুদ্রে ছিল তার সবটাই ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হয়ে গিয়েছে, তাই নতুন করে ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন দেখছে না ওয়াশিংটন।
আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে ভারত। সরকারি সূত্রের খবর, এই ছাড় কার্যকর হওয়ার পর ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল তেলের বরাত দিয়েছিল। ভারতের এই বিপুল পরিমাণ সস্তার তেল কেনার বিষয়টি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিকদের একাংশ তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, এই ছাড়ের ফলে মস্কো এবং তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ কমে যাচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে তাদের যুদ্ধকালীন তহবিলকে সাহায্য করছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ বিশ্ববাজারের অস্থিরতা কমাতে ৩০ দিনের জন্য এই বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছিল মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। এর ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলি কোনো বাধা ছাড়াই রাশিয়ার থেকে তেল কেনার সুযোগ পেয়েছিল। একইসঙ্গে ইরানও প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ পায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার সেই নমনীয়তার পথ থেকে সরে এসে ফের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটছে, যা বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও জোগান শৃঙ্খলে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।





