দেশজুড়ে যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং তাঁদের দেশের অগ্রগতির মূল স্রোতে সামিল করার লক্ষ্যে ফের এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। ‘মিশন মোড’-এ কর্মসংস্থান সৃষ্টির নিরবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার অঙ্গ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ১৯তম ‘রোজগার মেলা’র শুভ সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই দেশব্যাপী মেগা নিয়োগ অভিযানের মাধ্যমে দেশের ৪৭টি প্রান্তে বিভিন্ন সরকারি চাকরির জন্য নির্বাচিত ৫১,০০০-এরও বেশি প্রার্থীর হাতে আজ নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হলো। নবনিযুক্ত প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ পথচলার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এদিন এক প্রেরণাদায়ী ভাষণও প্রদান করেন।
এবারের রোজগার মেলায় যাঁরা সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র পেলেন, তাঁরা মূলত ভারতীয় রেল, ডাক বিভাগ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং অর্থ মন্ত্রকসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দপ্তরে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী মোদী দিয়েছিলেন, রোজগার মেলা তারই অন্যতম প্রধান সফল রূপায়ণ। উল্লেখ্য, এই কর্মসূচি শুরুর পর থেকে গত ১৮টি রোজগার মেলার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ লক্ষ প্রার্থীর হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, যা ভারতীয় ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।
কলকাতায় এই রোজগার মেলার মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল শিয়ালদহের ডঃ বিসি রায় অডিটোরিয়ামে। পূর্ব রেলের উদ্যোগে আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার। রেল মন্ত্রকের একক পরিচালনায় এবং ভারত সরকারের অন্যান্য মন্ত্রক ও দপ্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণে শিয়ালদহের এই মেগা অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্কর, শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার শ্রী রাজীব সাক্সেনা এবং ভারত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকবৃন্দ।
পূর্ব রেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই বৃহৎ নিয়োগ উদ্যোগটি দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে টেকসই ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বাস্তব সুযোগে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। কর্মসংস্থানের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ যুবসমাজকে জাতি গঠনের কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার পাশাপাশি ভারতীয় রেলের অবিচল প্রতিশ্রুতিরই এক অন্যতম উজ্জ্বল প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি কোণায় আজ কর্মসংস্থানের জোয়ার এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে নবনিযুক্তদের মনে করিয়ে দেন যে, তাঁরা এখন থেকে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারি পরিষেবা প্রদান এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই নতুন কর্মীবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের ৪৭টি স্থানে একযোগে আয়োজিত এই নিয়োগ উৎসব আবারও প্রমাণ করল যে, সরকার যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণে কতটা দায়বদ্ধ। এই বিপুল নিয়োগের ফলে দেশের প্রশাসনিক পরিকাঠামো যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই বেকারত্ব দূরীকরণে এক বিরাট সাফল্যের নজির তৈরি হলো।





