ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক নতুন সূর্যোদয়। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক স্পর্শ করলেন। দীর্ঘ ৪,৩৯৯ দিনের নিরবচ্ছিন্ন প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের দীর্ঘতম মেয়াদের রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিলেন। এটি কেবল সংখ্যার ব্যবধান নয়, বরং এক সাধারণ মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, জনসেবার অক্লান্ত সাধনা এবং অটল দেশপ্রেমের এক মহাকাব্যিক জয়গাথা।
কোনো রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, কোনো ‘বাপু’-র হাতের আশীর্বাদ ছাড়াই নিজের যোগ্যতায় তিনি এই শিখরে পৌঁছেছেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে যখন নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার শপথ নিয়েছিলেন, তখন অনেকে হয়তো কল্পনাও করেননি যে গুজরাটের এই সাধারণ চা বিক্রেতা একদিন আধুনিক ভারতের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক শাসক হয়ে উঠবেন। ভদ্রনগরের সেই ছোট ছেলেটি, যিনি একসময় রেলস্টেশনে চা বিক্রি করতেন, তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের উজ্জ্বলতম মুখ।
বিগত ১২ বছরে ভারতের আমূল রূপান্তর ঘটেছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া থেকে জনধন অ্যাকাউন্টের বিপ্লব, স্বচ্ছ ভারত অভিযান থেকে আয়ুষ্মান ভারতের স্বাস্থ্যসুরক্ষা—মোদীর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল দূরদর্শী। আজ ৮০ কোটিরও বেশি মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন, লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হয়েছে, শৌচাগার তৈরির মাধ্যমে দেশের নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অর্থনীতির নিরিখে ভারত আজ ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার নাম। দেশের বিমানবন্দরের সংখ্যা ৭৪ থেকে বেড়ে ১৬০-এর বেশি হওয়া কিংবা গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের অভাবনীয় বিস্তার—সবই মোদী জমানার উন্নয়নের সাক্ষী।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের গুরুত্ব আজ গগনচুম্বী। জি-২০ সম্মেলনের সফল আয়োজন প্রমাণ করেছে ভারত বিশ্বের নতুন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তবে এই সাফল্যের পথটি কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। কোভিড মহামারীর ভয়াবহ দুঃসময়ে পুরো দেশকে এক সুতোয় গেঁথে টিকাকরণের বিশাল কর্মসূচি, অক্সিজেন সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার—প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্তমূলক নেতৃত্ব কোটি কোটি ভারতবাসীকে সাহস জুগিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেহরুর আমল ছিল সদ্য স্বাধীন ভারতের ভিত্তি স্থাপনের সময়। আর মোদীর সময়কাল একটি প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জনগণের রায় মেনে চলা, বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখেও নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লড়াই চালিয়ে যাওয়া—এই ৪,৩৯৯ দিন মোদীর প্রতি সাধারণ মানুষের অটুট আস্থার এক জীবন্ত দলিল। নিজের স্বপ্ন, সততা এবং পরিশ্রম দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, উত্তরাধিকারের চেয়েও বড় হলো দেশবাসীর আশীর্বাদ। আজকের এই রেকর্ড মোদীর রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র, যেখানে তিনি শুধু ক্ষমতার শীর্ষে নয়, ভারতের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়েও নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।





