২০২৬-এর ঐতিহাসিক পালাবদলের পর সোমবার নবান্নে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর নিজের নির্দিষ্ট ১৪ তলার ঘরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর পাশে শপথ নেওয়া নতুন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনীয়াকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। দফতর বণ্টন এখনও না হলেও, প্রথম দিনেই নবান্ন বুঝিয়ে দিল—এবার লক্ষ্য কেবল ‘সুশাসন’ এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার।
এদিন বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলনে ৬টি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার চলবে সংবিধান প্রণেতা বাবাসাহেব অম্বেদকরের আদর্শ মেনে।
১. গণতন্ত্রের জয়গান: প্রথম সিদ্ধান্তেই মুখ্যমন্ত্রী বাংলার জনগণকে এক রক্তপাতহীন ও ভয়মুক্ত ভোট উপহার দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলিকেও ধন্যবাদ জানিয়ে সৌজন্যের নজির গড়েন।
২. রাজনৈতিক খুনের বিচার: বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে যাঁদের আত্মবলিদান রয়েছে, সেই ৩২১ জন শহিদকে শ্রদ্ধা জানান শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিগত দিনে হওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক হত্যার বিচার হবে। এই পরিবারগুলির সামাজিক দায়িত্ব এই সরকার গ্রহণ করল।”
৩. সীমান্ত সুরক্ষা ও বিএসএফ: রাজ্যের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস বদলে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী দ্বিতীয় বড় ঘোষণাটি করেন। তিনি জানান, বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আজ থেকেই অনুমোদন দেওয়া হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে এই হস্তান্তর সম্পন্ন করার জন্য মুখ্য সচিব ও ভূমি সচিবকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪. আয়ুষ্মান ভারত ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প: এতদিন বাংলায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বন্ধ ছিল। মুখ্যমন্ত্রী আজ ঘোষণা করেন, আজ থেকেই রাজ্য এই প্রকল্পে যুক্ত হলো। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, ফসল বিমা যোজনা এবং উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধা বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
৫. বকেয়া কাজ উদ্ধার: মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে উজ্জ্বলা যোজনার ১ কোটি আবেদন এবং বিশ্বকর্মা যোজনার ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন কেন্দ্রে পাঠায়নি। বর্তমান সরকার সেই সমস্ত আবেদন আজই দিল্লি পাঠিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও এখন থেকে রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকরা কেন্দ্রের ট্রেনিংয়ে যেতে পারবেন।
৬. নিয়োগ ও বয়সের ছাড়: চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবথেকে বড় চমক ছিল বৈঠকের শেষে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন নিয়োগ আটকে থাকায় অনেক পরীক্ষার্থীর বয়স পেরিয়ে গেছে। তাই সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে রাজ্যে আজ থেকেই ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) আইনগতভাবে কার্যকর করা হলো।





