দেশের বিচার ব্যবস্থায় বিচারাধীন বন্দিদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। বিভিন্ন হাইকোর্টে পড়ে থাকা হাজার হাজার জামিন আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সোমবার একগুচ্ছ কড়া পরামর্শ ও নির্দেশিকা জারি করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে আদালতের দায়বদ্ধতা সবার আগে।
মামলার জট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বিশেষ করে এলাহাবাদ, পাটনা এবং মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এলাহাবাদ হাইকোর্টের উদাহরণ টেনে আদালত বলে, সেখানে বিচারপতিরা প্রতিদিন শত শত মামলার শুনানি করা সত্ত্বেও জট কমছে না। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং প্রশাসনিক কমিটিকে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যাতে প্রতিটি জামিন আবেদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট শুনানির তারিখ নিশ্চিত করা যায়। প্রয়োজনে ‘বিচারিক সম্পদ’ একত্রিত করে এই মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে পাটনা হাইকোর্টের বিলম্ব নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট লক্ষ্য করেছে যে, সেখানে জামিনের আবেদন মাসের পর মাস তালিকাভুক্ত হয় না। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, এক বছর আগে সেখানে ৬৩,০০০-এর বেশি জামিন আবেদন বকেয়া ছিল। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই মন্তব্যগুলো কোনো হাইকোর্টের সমালোচনা নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা মাত্র।
প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে সুপ্রিম কোর্ট বেশ কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক সংস্কারের কথা বলেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার-ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সাপ্তাহিক বা পাক্ষিকভাবে জামিনের মামলা তালিকাভুক্ত করা। নতুন আবেদন জমা পড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই যেন তা শুনানির জন্য তালিকায় ওঠে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অকারণে সময় নষ্ট বা ‘মুলতবি’ চাওয়ার প্রবণতাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিদের মতে, মৌলিক অধিকার রক্ষা করা আদালতের পরম কর্তব্য, আর সেখানে দীর্ঘসূত্রতার কোনো স্থান নেই।





