দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবা’ এখন এক নতুন মোড় নিতে চলেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (DTC) এবং ক্লাস্টার বাসে প্রচলিত কাগজের ‘পিঙ্ক টিকিট’ ব্যবস্থা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে মহিলাদের বিনামূল্যে ভ্রমণের জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ডিজিটাল ‘পিঙ্ক সহেলি’ স্মার্ট কার্ড। সরকারের এই সিদ্ধান্তে বাসে যাতায়াতের পদ্ধতিতে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি বিনামূল্যে ভ্রমণের যোগ্যতার ক্ষেত্রেও বড়সড় পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।
১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দিল্লির বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য মহিলাদের কাছে ‘পিঙ্ক সহেলি’ স্মার্ট কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। যারা এই কার্ড সংগ্রহ করবেন না, তাদের সাধারণ যাত্রীদের মতো ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হবে। এই ডিজিটাল কার্ডটি গত ২ মার্চ, ২০২৬-এ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত ধরে উদ্বোধন করা হয়েছিল। সরকারের লক্ষ্য হলো কাগজের টিকিটের ব্যবহার কমিয়ে পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল এবং স্বচ্ছ করা।
তবে এই নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন হলো যোগ্যতার মানদণ্ড। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দিল্লির বাইরের মহিলারা আর ডিটিসি বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা পাবেন না। শুধুমাত্র দিল্লির স্থায়ী বাসিন্দা এবং যাদের কাছে দিল্লির বৈধ বসবাসের প্রমাণপত্র রয়েছে, তারাই এই ‘পিঙ্ক সহেলি’ স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে ভর্তুকির অপচয় কমবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে দিল্লি প্রশাসন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ মহিলা দিল্লির বাসে যাতায়াত করেন। তবে মার্চ মাস পর্যন্ত মাত্র ৬ লক্ষ মহিলা এই স্মার্ট কার্ড তৈরি করিয়েছেন, যা মোট যাত্রীর মাত্র ৫-৬ শতাংশ। এই সংখ্যা বাড়াতে এবং ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান কার্ড’ প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ সুবিধা হিসেবে, এই কার্ডটি রিচার্জ করে দিল্লি মেট্রোতেও ব্যবহার করা যাবে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক প্রকল্পটির ডিজিটাল রূপান্তর এখন দিল্লির পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে।





