“ষড়যন্ত্র করলে ছাড়ব না!” ট্রাম্পের ৫০% ট্যাক্সের হুঁশিয়ারি, পাল্টা হুঙ্কার দিল বেজিংও

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি টক্কর শুরু হলো দুই বিশ্বশক্তি— আমেরিকা ও চিনের মধ্যে। ইরানকে নেপথ্যে থেকে বেজিং সামরিক সাহায্য দিচ্ছে, এমন অভিযোগে যখন আন্তর্জাতিক মহল তোলপাড়, ঠিক তখনই রণংদেহী মেজাজে ধরা দিল চিন। বুধবার যাবতীয় অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে আমেরিকাকে উল্টো হুঁশিয়ারি দিল শি জিনপিংয়ের দেশ।

বিতর্কের মূলে ‘চীনা স্যাটেলাইট’

সম্প্রতি ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’-এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর নজরদারি চালাতে ‘TEE-01B’ নামক একটি শক্তিশালী চীনা স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে ইরান। এই খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন:

  • ইরানকে অস্ত্র বা প্রযুক্তি সরবরাহের প্রমাণ মিললে চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপানো হবে।

  • মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, চিন ইরানকে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।


চিনের পাল্টা চাল ও হুঁশিয়ারি

চীনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই অভিযোগকে ‘সাজানো গল্প’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে কেবল অস্বীকার করেই ক্ষান্ত হয়নি বেজিং। তারা ওয়াশিংটনকে পাল্টা হুমকি দিয়ে জানিয়েছে:

“মিথ্যে অজুহাতে যদি আমেরিকা চীনা পণ্যের ওপর কর বাড়ায়, তবে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। পিঠ পিছে ষড়যন্ত্র করলে আমরাও দেখিয়ে দেব।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন একদিকে ইরানের তেলের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসায়িক সংঘাতও এড়াতে চায়। তাই তারা ‘নিরপেক্ষ’ সাজার চেষ্টা করলেও তলে তলে ইরানকে ‘আত্মরক্ষার সরঞ্জাম’ সরবরাহ করছে বলে অনেকের ধারণা।


শান্তি বৈঠকের আগে ট্রাম্পের ২ কড়া শর্ত

চিনকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন ট্রাম্প। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে তেহরানের সামনে দুটি কঠিন শর্ত দিয়েছেন তিনি: ১. জাহাজ চলাচলে বাধা নয়: পারস্য উপসাগরীয় জলপথে অন্যের জাহাজ আটকালে ইরানকেও ওই পথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ২. নির্ণায়ক ক্ষমতা: আলোচনায় আসা ইরানি প্রতিনিধিদের হাতে যেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে এবং তাতে ‘রেভোলিউশনারি গার্ডস’-এর সবুজ সংকেত থাকে।

[Image: Donald Trump and Xi Jinping with the flags of USA and China behind them]


উপসংহার: একদিকে পাকিস্তানের মাটিতে নতুন করে শান্তি বৈঠকের সম্ভাবনা, অন্যদিকে চিন-আমেরিকা বাণিজ্যিক যুদ্ধের মেঘ— সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার সংকট এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে। ট্রাম্পের ‘৫০ শতাংশ ট্যাক্স’ কি শেষ পর্যন্ত ড্রাগনকে দমাতে পারবে? নাকি চিন-ইরান জোট আমেরিকার জন্য নতুন বিপদ ডেকে আনবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy