ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিএসএফ ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার বাঁকড়া সংলগ্ন ৭৭ নম্বর ব্যাটালিয়নের এই ঘটনায় এক এএসআই (ASI) পদমর্যাদার জওয়ানের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত জওয়ানের নাম জ্যোতিরাম সিং। বৃহস্পতিবার সকালে হাড়োয়া-হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্তের একেবারে কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই ক্যাম্পে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহ ঘটনা?
স্থানীয় ও বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯:৩০ থেকে ১০টার মধ্যে বিএসএফ ক্যাম্পের ভেতরে থাকা পেট্রোল পাম্প থেকে স্পিডবোটে জ্বালানি ভরছিলেন জ্যোতিরাম সিং। সীমান্তে নদীপথে নজরদারির জন্য স্পিডবোটগুলি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী অবনী কৃষ্ণ হাওলি জানান, তেল ভরার সময় আচমকাই পাম্পে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে পাম্প ঘরটি। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় এবং পাম্পের ভেতরে থাকা প্রচুর দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন বিধ্বংসী রূপ নেয়। ক্যাম্পে থাকা অন্যান্য জওয়ান ও প্রতিবেশীরা ছুটে এলেও জ্যোতিরামকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পাম্পের ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
উদ্ধারকাজ ও তদন্ত:
ঘটনার খবর পেয়ে লেবুখালি থেকে দমকলের ইঞ্জিন এবং হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বিডিও অফিসের কর্মী সুনীল কুমার মণ্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রাথমিক অনুমান শর্ট-সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। মৃত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এই স্পর্শকাতর এলাকায় এমন দুর্ঘটনা বিএসএফ-এর পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদিও বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি, তবে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে ব্লক প্রশাসন ও পুলিশ।





