সপ্তাহের শুরুটা কিছুটা ইতিবাচক হলেও মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে যেন ফের দুর্যোগ নেমে এল। সপ্তাহের প্রথম সেশনের সবুজের ছোঁয়া পুরোপুরি মুছে ফেলে মঙ্গলবার বাজার ফের রক্তাক্ত হয়ে উঠল। লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রির চাপে সেনসেক্স এবং নিফটি উভয় সূচকই কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং বাজার জুড়ে অস্থিরতা বাজারের গতিপথকে পুরোপুরি নিম্নমুখী করে দিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই ভারতীয় বাজারে চরম চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টানা চতুর্থ লেনদেন পর্বে বাজার মাথা তুলে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগের সেশনেও বিএসই সেনসেক্স ৫০৮ পয়েন্ট খুইয়ে ৭৪,২৬৭ পয়েন্টে এবং নিফটি ১৬৫ পয়েন্ট কমে ২৩,৩৮২ পয়েন্টে থমকে গিয়েছিল। মঙ্গলবার সেই একই ধারা অব্যাহত থেকে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজারের এই দৈন্যদশার পেছনে মূলত কাজ করছে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিশেষ করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আঁচ সরাসরি প্রভাব ফেলছে বিশ্ব বাজারে। সেই সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলার ছুঁয়ে ফেলায় ভারতীয় অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের এই উচ্চমূল্য ভারতের আমদানিকৃত খরচের বোঝা বাড়ায় এবং একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে, যা শেয়ার বাজারের ক্ষেত্রে মোটেও ইতিবাচক নয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও (FII)। তারা একটানা ভারতীয় বাজার থেকে তাদের তহবিল সরিয়ে নিচ্ছেন, যার ফলে বাজারে বিক্রির চাপ ক্রমশ বাড়ছে। একদিনেই হাজার হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির ফলে সূচকগুলোর অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাঙ্কিং, অটো এবং এফএমসিজি খাতের শেয়ারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে। নিফটি ব্যাঙ্ক এবং নিফটি অটো সূচকের দরপতন বাজারকে আরও নিচে টেনে নামিয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আইটি খাত। আইটি শেয়ারগুলো কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা না করলে সূচকের পতন আরও গভীর হতে পারত।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ না কমছে এবং ক্রুড অয়েলের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসছে, ততদিন পর্যন্ত বাজার অস্থিতিশীল থাকবে। এমতাবস্থায় বিনিয়োগকারীদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবেগপ্রবণ হয়ে বা গুজবে কান দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া এই মুহূর্তে বড় ঝুঁকি হতে পারে। পরিবর্তে, মৌলিকভাবে শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর দিকে নজর রাখা এবং প্রয়োজনে আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিয়ে এগোনোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
মনে রাখবেন, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সর্বদা ঝুঁকি সাপেক্ষ। এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বুঝে নিন এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।





