লাড্ডু ভাঙতেই বেরিয়ে এল বিষাক্ত রহস্য! সুরাটের অভিজাত আবাসনে মহিলার ভয়ঙ্কর কীর্তি ফাঁস

প্রতিবেশীর ওপর ক্ষোভ মেটাতে ধর্মের নাম করে বিষ দেওয়ার চেষ্টা! সুরাটের শালিগ্রাম স্টেটস-এর এক অভিজাত আবাসনে ঘটে যাওয়া ‘প্রসাদ বিষক্রিয়া’ মামলার কিনারা করতে গিয়ে রীতিমতো স্তম্ভিত পুলিশ। দেখা গিয়েছে, ভক্তির নামে প্রতিবেশী পরিবারকে কার্যত শেষ করে দেওয়ার ছক কষেছিলেন পাশের বাড়িরই এক মহিলা।

কী ঘটেছিল সেদিন? গত ১০ এপ্রিল বিকেল নাগাদ পেশায় ব্যবসায়ী গোবর্ধনভাই ডন্ডা বাড়ি ফিরে দেখেন, তাঁর দরজায় এক প্যাকেট বুন্দি লাড্ডু ঝোলানো রয়েছে। তিনি সেটিকে ‘ভগবানের প্রসাদ’ মনে করে ঘরে নিয়ে যান। তিনি এবং তাঁর পুত্রবধূ কিরণ কোনো সন্দেহ ছাড়াই সেই লাড্ডু খেয়ে ফেলেন। কিন্তু খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল বমি ও মাথা ঘোরা। গোবর্ধনভাইয়ের অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে যে তাঁকে হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখতে হয়।

মেয়ের বুদ্ধিতেই ফাঁস রহস্য: পরিবারের ছোট মেয়ে ঈশার তৎপরতায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। তাঁর সন্দেহ হওয়ায় অবশিষ্ট লাড্ডুগুলো ভেঙে পরীক্ষা করতেই চক্ষু চড়কগাছ! দেখা যায়, প্রতিটি লাড্ডুর ভেতরে আস্ত ৩-৪টি করে হাই-ডোজের ঘুমের ওষুধের বড়ি ঢোকানো রয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে পাশের বাড়ির প্রতিবেশী উষাবেন মহেন্দ্রভাই নকরানিকে গ্রেফতার করে।

প্রতিশোধের নেপথ্যে ‘পালিয়ে বিয়ে’: পুলিশি জেরায় উষাবেন স্বীকার করেছেন যে, চরম আক্রোশ থেকেই তিনি এই কাজ করেছেন।

  • কারণ: আট মাস আগে উষাবেনের মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে করেন।

  • সন্দেহ: উষাবেনের ধারণা ছিল, প্রতিবেশী পুত্রবধূ কিরণই তাঁর মেয়েকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন। সেই প্রতিহিংসার আগুন থেকেই তিনি ডন্ডা পরিবারকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

আতঙ্কে বাসিন্দারা: পুত্রবধূ কিরণ আতঙ্কিত স্বরে জানান, “সেদিন আর একটা লাড্ডু খেলেই আমরা কেউ আজ বেঁচে থাকতাম না।” অভিযুক্ত উষাবেনের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’-র ১২৩ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে ওই আবাসনের বাসিন্দারা উষাবেনকে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন, নাহলে প্রাণের ভয়ে নিজেরাই ঘর ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy