লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভুল থেকে শিক্ষা? ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় স্বচ্ছতা আনতে কড়া পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল বিজেপি সরকার। বুধবার নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র সূচনা করলেন। এদিন রাজ্যের ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করা হয়।

স্বচ্ছতায় জোর নবান্নের
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বচ্ছতা। সরকারি কোষাগারে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক চাপ থাকলেও, প্রকল্পের সুফল যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছায়, তার জন্য বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রকল্পের সম্পূর্ণ উপভোক্তা তালিকা দ্রুত সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এতে সাধারণ মানুষ নিজেরাই যাচাই করে দেখতে পারবেন কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।

অভিযোগ জানানোর সুযোগ
তালিকায় নাম থাকা নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে বা কোনো যোগ্য উপভোক্তার নাম বাদ পড়ে গেলে, অভিযোগ জানানোর সম্পূর্ণ সুযোগ থাকছে। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যসচিব। প্রকল্পটিতে সুবিধাভোগী নির্বাচনের জন্য ব্লক স্তর থেকে জেলাশাসকের দপ্তর পর্যন্ত বহুস্তরীয় যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।

কেন নতুন করে যাচাই?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পূর্ববর্তী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে অযোগ্য উপভোক্তাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতায় শিক্ষা নিয়ে এবারের যাচাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে।” প্রয়োজনে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

কীভাবে যুক্ত হবেন তালিকায়?
অনলাইনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে আগামী তিন মাস ধরে আবেদন নেওয়া হবে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন নাম নিয়মিতভাবে তালিকায় যুক্ত করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি কমিয়ে প্রকৃত প্রাপকদের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্নপূর্ণা যোজনার এই স্বচ্ছ নীতি শুধু এই প্রকল্পেই নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও নতুন মাইলফলক হতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy