রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় ফের এক বড় ধাক্কা! শ্লীলতাহানি, অশালীন আচরণ এবং ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরনিগমের ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডল। বুধবার গভীর রাতে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় শাসকদলের অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
পুলিশ সূত্রে খবর, জনৈক এক মহিলা রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ওই মহিলা দাবি করেছেন যে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এবং পরবর্তীতে চলতি বছরের ৯ মে—এই দুই দফায় কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডল তাঁর সঙ্গে শ্লীলতাহানি করেছেন। শুধু শারীরিক হেনস্থাই নয়, অভিযোগকারিণীর অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কাউন্সিলর তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগালি দিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন। মহিলার অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে নিয়ে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র হাতে আসার পরেই বুধবার রাতে কাউন্সিলরকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ ধৃত কাউন্সিলরকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশ তাঁর হেফাজত চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে এই ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক কালে কলকাতা পুরনিগমের একাধিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বুধবারই, অর্থাৎ বিশ্বজিৎ মণ্ডলের গ্রেফতারির ঠিক আগেই, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশকুমার শর্মাকে গ্রেফতার করেছে বড়বাজার থানার পুলিশ। বড়বাজার থানায় দায়ের হওয়া একটি পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘ তদন্তের পর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবারই শ্লীলতাহানির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের গ্রেফতারির খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। একদিকে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক গ্রেফতারি এবং অন্যদিকে পুরনিগমের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এখন এক গভীর সংকটের মুখে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কিংবা ধৃত কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলের তরফ থেকে এই গ্রেফতারির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কাউন্সিলরের গ্রেফতারির খবরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই শাসকদলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, দলের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এই ধরনের অপরাধমূলক প্রবণতা কীভাবে বাড়ছে? একটার পর একটা গ্রেফতারির ঘটনায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা যে প্রশ্নের মুখে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয়, আদালত এই কাউন্সিলরকে পুলিশি হেফাজতে পাঠায় কি না এবং মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়।





