কানাডার আকাশসীমা রক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে জোর চর্চা। মার্কিন কোম্পানি লকহিড মার্টিনের তৈরি এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা কমিয়ে সুইডিশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘সাব’ (Saab)-এর গ্রিপেন-ই/এফ (Gripen-E/F) যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে কানাডা সরকার। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং লকহিড মার্টিনের জন্য একটি বড় কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুরানো চুক্তিতে অনিশ্চয়তা ২০২৩ সালে ১৯ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বিনিময়ে ৮৮টি এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছিল কানাডা। তবে ২০২৫ সালে কার্নি প্রশাসন এই ক্রয় প্রক্রিয়ার ওপর একটি রাজনৈতিক পর্যালোচনা শুরু করে। যদিও কানাডা ইতিমধ্যে ১৬টি বিমানের মূল্য পরিশোধ করেছে এবং সেগুলো বুঝে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, তবুও বাকি ৭২টি বিমান কেনার বিষয়টি এখন নতুন করে পর্যালোচনার টেবিলে।
সুইডেনের লোভনীয় প্রস্তাব এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সুইডিশ কোম্পানি ‘সাব’ কানাডাকে এক আকর্ষণীয় প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের এই প্রস্তাবের মূল বিশেষত্ব হলো:
স্থানীয় উৎপাদন: কানাডাতেই যুদ্ধবিমান তৈরির সুযোগ।
প্রযুক্তি হস্তান্তর: কানাডার নিজস্ব প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি।
সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ: সোর্স কোডসহ বিমানের তথ্যের ওপর কানাডার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।
অতিরিক্ত নজরদারি: ৭২টি গ্রিপেন যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ছয়টি উন্নত গ্লোবাল-আই (GlobalEye) নজরদারি বিমান সরবরাহের প্রতিশ্রুতি।
দুই বিমানের সমন্বয়ে বড় লক্ষ্য? সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, কানাডা সরকার কোনো একটির বদলে উভয় বিমানের একটি মিশ্র বহর তৈরির পরিকল্পনা করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এফ-৩৫ বিমানটি নর্থ আমেরিকা ডিফেন্স (NORAD) এবং স্টিলথ সক্ষমতার জন্য সেরা, অন্যদিকে সুইডিশ গ্রিপেন সাশ্রয়ী এবং ন্যাটোর (NATO) বিভিন্ন মিশনে কার্যকর। তাই কার্নি প্রশাসন ৮৮টিরও বেশি যুদ্ধবিমান কেনার মাধ্যমে এফ-৩৫ এবং গ্রিপেন—উভয়ের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বিমান বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কথা ভাবছে।
লকহিড মার্টিনের অস্বস্তি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বোয়িংয়ের কাছে এফ-৪৭ (F-47) চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট হাতছাড়া হওয়ার পর লকহিড মার্টিন কিছুটা চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কানাডার কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হতে পারত। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কানাডার প্রতিরক্ষানীতি পরিবর্তনের ফলে পুরো বিষয়টি এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।





