রাজ্যে রেফার রোগ দূর করতে এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিল নতুন বিজেপি সরকার। শনিবার বিধাননগর হাসপাতাল থেকে সারভাইক্যাল ক্যান্সারের টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করার পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
হাসপাতালে ‘লাইভ মনিটারিং’ ও কন্ট্রোল রুম: রেফার সমস্যা ও সরকারি হাসপাতালের অনিয়ম রুখতে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য ভবনে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হচ্ছে, যেখান থেকে রাজ্যের জেলা হাসপাতালগুলোর লাইভ মনিটরিং হবে। হাসপাতালের দালাল চক্র, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীর অবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা—সবই থাকবে এই নজরদারির আওতায়। পেশাদার কর্মীদের মাধ্যমে এই মনিটরিং চলবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের অধিকার: রাজ্য সরকারের থেকে অত্যন্ত সস্তায় (এক টাকায়) জমি পাওয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য বিশেষ নিয়ম জারি করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, এই হাসপাতালগুলোকে এখন থেকে তাদের ১৫ শতাংশ বেড আর্থিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতালে চাপ বাড়লে এই রোগীদের বিনামূল্যে ভর্তি ও চিকিৎসা পরিষেবা দিতে বাধ্য থাকবে ওই হাসপাতালগুলো।
আয়ুষ্মান ভারত ও সস্তায় ওষুধ: বহু প্রতীক্ষার পর বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। রাজ্যের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ পরিবারের প্রায় ৬ কোটি মানুষ এবার থেকে দেশের যে কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা সুরক্ষার সুবিধা পাবেন। এছাড়া:
আয়ুষ্মান মন্দির: সরকারি হাসপাতালগুলোর নাম পরিবর্তন করে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ করা হবে।
জনঔষধী কেন্দ্র: রাজ্যে ৪৬৭টি প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র চালু হবে, যেখানে ১০০০ টাকার ওষুধ মাত্র ১০০ টাকায় পাওয়া যাবে।
অমৃত প্রকল্প: ক্যান্সার ও দুরারোগ্য রোগের ওষুধ ৩০ শতাংশ ভর্তুকিতে পাওয়া যাবে।
ন্যাশনাল হেলথ মিশন: কেন্দ্রের সহযোগিতায় এ বছর থেকেই রাজ্যে ন্যাশনাল হেলথ মিশন কার্যকর করা হবে, যার জন্য ইতিমধ্যে ৫২৭ কোটি টাকা হাতে পেয়েছে রাজ্য সরকার।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বড় লক্ষ্য: এসএসকেএম হাসপাতালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ইউনিটের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেফার সমস্যা কমানোর জন্য হাসপাতালগুলিতে বেড সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বচ্ছভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। গত তিন সপ্তাহে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় যে গতি এসেছে, আগামী দিনে তা আরও বাড়ানোই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সাহসী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপগুলি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।





