রেল স্টেশনে নোংরা ফেললেই বিপদ! পকেট থেকে খসবে হাজার হাজার টাকা, নয়া ফরমান পূর্ব রেলের

ট্রেনের কামরা হোক বা স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম—চিপসের প্যাকেট, জলের বোতল কিংবা গুটখার পিক ফেলার আগে এবার দশবার ভাবুন। আপনি ভাবছেন কেউ দেখছে না, কিন্তু আপনার অজান্তেই আপনার ওপর নজর রাখছে রেলের বিশেষ নজরদারি টিম। পূর্ব রেলের বিভিন্ন স্টেশনে বর্তমানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে যে রণংদেহী মূর্তি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ, তার খতিয়ান শুনলে আঁতকে উঠবেন যে কোনো সাধারণ যাত্রী।

পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্করের নেতৃত্বে এবং আইজি শ্রী অমিয় নন্দন সিনহার পর্যবেক্ষণে শুরু হয়েছে এক মেগা ‘ক্লিনলিনেস ড্রাইভ’। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং রেল চত্বরকে জঞ্জালমুক্ত করতে ধরপাকড় এবং জরিমানা—দুই অস্ত্রই ব্যবহার করছে রেল। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৬ মে ২০২৬ পর্যন্ত আসানসোল, শিয়ালদহ, মালদা এবং হাওড়া বিভাগে মোট ২০,০৯০ জন যাত্রীকে নোংরা ছড়ানোর অপরাধে পাকড়াও করা হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে ৪০ লক্ষ ৩১ হাজার ৬০০ টাকা।

তবে শুধু এই বছর নয়, গত দু’বছরের খতিয়ান আরও চমকপ্রদ। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত পূর্ব রেলের জালে ধরা পড়েছেন ১ লক্ষ ১৮ হাজার ১৫২ জন অভিযুক্ত। যার ফলে রেলের রাজকোষে জমা পড়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৮১০ টাকা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র নোংরা ফেলার অপরাধেই প্রায় ২ কোটি টাকা জরিমানা গুনেছেন রেল যাত্রীরা। এই তালিকায় সবথেকে এগিয়ে রয়েছে শিয়ালদহ বিভাগ। যেখানে ৩৫,১৮৭ জনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ঠিক পরেই রয়েছে হাওড়া এবং আসানসোল ডিভিশন।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি এই প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “রেলের লক্ষ্য কেবল জরিমানা আদায় করা নয়, বরং যাত্রীদের মধ্যে স্টেশনকে নিজের সম্পত্তির মতো আগলে রাখার মানসিকতা তৈরি করা। রেলকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে স্টেশন পরিষ্কার রাখছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া বিশ্বমানের স্টেশন গড়া অসম্ভব।” রেল সূত্রে খবর, আগামী দিনে সিসিটিভি এবং সাদা পোশাকের পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। পকেট বাঁচাতে এবং সুস্থ পরিবেশে যাতায়াত করতে যাত্রীদের সচেতন হওয়াই এখন একমাত্র পথ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy