রুদ্রনীলকে নিয়ে একদা ছিল তীব্র বিষোদ্গার, আজ কেন পাশে পরমব্রত?

টলিউডের দুই তুখড় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষের বন্ধুত্ব বরাবরই এক রহস্যময় সমীকরণ। কখনও গভীর সখ্যতা, তো কখনও চরম দূরত্ব— তাঁদের এই ‘আড়ি-ভাব’ সম্পর্কের চর্চা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিককালে টেকনিশিয়ান স্টুডিওর এক বিশেষ বৈঠকে রুদ্রনীলের পাশে পরমব্রতর উপস্থিতি এবং তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠেছে।

পুরনো ভিডিও ঘিরে বিতর্ক: ফেডারেশন বিতর্ক এবং নিজের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে পরমব্রত যখন সমালোচনার মুখে, ঠিক তখনই তাঁর একটি পুরনো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে রুদ্রনীল ঘোষের রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তনের সমালোচনা করতে গিয়ে পরমব্রত বলেছিলেন, “অনেক ঘাটের জল খাওয়া, অনেক দিক থেকে সুবিধা নেওয়া… আমি রুদ্রনীলের সঙ্গে নিজের তুলনা টানতে চাই না। এটা বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন।” অভিনেতা সেদিন রুদ্রনীলের রাজনৈতিক যাত্রাকে কার্যত ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও সাফাই: টেকনিশিয়ান স্টুডিওর সাম্প্রতিক বৈঠকে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। রুদ্রনীলের পাশে বসে পরমব্রত বলেন, “রুদ্র ও আমার ২৫ বছরের বন্ধুত্ব। আমাদের মত পার্থক্য আছে, রাজনৈতিক ভিন্নতাও আছে— কিন্তু আমরা বন্ধুত্বের মাঝে রাজনীতি আসতে দিইনি।” যদিও সমালোচকদের মতে, অতীতে যে রুদ্রনীলকে ‘সুবিধাভোগী’ বলে আক্রমণ করেছিলেন পরমব্রত, আজ সেই অভিনেতার পাশেই তাঁর এই অবস্থান ‘রাজনৈতিক কৌশল’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

নিজ অবস্থানে পরমব্রত: ‘পাল্টিবাজ’ তকমা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পরমব্রত নিজের সাফাই দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ফেডারেশনের সঙ্গে লড়াইয়ে একা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অভিনেতা বলেন, “সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলাম, কারণ কাজ না করলে সংসার অচল ছিল।” তাঁর মতে, সাধারণ দর্শক যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেস এবং ফেডারেশনকে এক চোখে দেখেন, তাই তাঁর সুর নরম করাকে সাধারণ মানুষ ‘পাল্টি খাওয়া’ হিসেবেই দেখছেন।

আইনি বিপত্তি: বিতর্কের মাত্রা বেড়েছে গড়িয়াহাট থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের পর। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পরমব্রতর একটি মন্তব্যকে ঘিরে আইনি জাঁতাকলে পড়েছেন তিনি। ওই সময়ে তিনি ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা হিংসায় মদত দেওয়ার শামিল— এই অভিযোগে সরব হয়েছেন এক আইনজীবী।

সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত আদর্শের লড়াই, ২৫ বছরের পুরনো বন্ধুত্ব এবং আইনি টানাপোড়েনের চোরাবালিতে এখন যথেষ্ট কোণঠাসা টলিপাড়ার এই জনপ্রিয় অভিনেতা। একদিকে প্রাক্তন বন্ধুর সাথে মেলবন্ধন, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ট্রোলিং— এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে পরমব্রত কতটা নিজের ইমেজ ফেরাতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy