টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বৈঠকে করা মন্তব্য এবং ২০২১ সালের একটি পুরনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে বর্তমানে চরম অস্বস্তিতে টলিউড অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ‘পাল্টিবাজ’ বা ‘সুবিধাভোগী’ বলে তীব্র আক্রমণ করছেন নেটিজেনরা। এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেতা।
কেন সুর নরম করেছিলেন পরমব্রত? ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জেরে পরমব্রত আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীকালে এক ভিডিও বার্তায় তিনি ক্ষমা চেয়ে নেন। এ প্রসঙ্গে পরমব্রতর দাবি, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে মামলা করার জেরে টলিউডে তিনি কার্যত ‘ব্যান’ হয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়েই তাঁর পরিবারে নতুন সন্তানের আগমন ঘটে। অভিনেতা বলেন, “সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলাম। এছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না।”
‘মানুষের ভুল বোঝা স্বাভাবিক’ নিজে কেন শাসকদলের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সুর মেলালেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে পরমব্রত বলেন, “সাধারণ দর্শক ফেডারেশন, স্বরূপ বিশ্বাস, অরূপ বিশ্বাস এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে এক করে দেখেন। তাই এতদিন যারা আমার লড়াই দেখেছেন, তাঁরা আমাকে হঠাৎ সুর নরম করতে দেখলে ‘পাল্টিবাজ’ বলবেনই। এটা খুব স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।” পাশাপাশি তিনি জানান, ভোটের সময় প্রচারে গিয়েও তিনি বিশেষ চাপের মুখে ছিলেন, যা হয়তো সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছ ছিল না। ভবিষ্যতে তাঁর অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন অভিনেতা।
আইনি জটিলতায় নতুন মোড় বিতর্ক শুধু টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বৃহস্পতিবার গড়িয়াহাট থানায় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন এক আইনজীবী। অভিযোগ, ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের করা কিছু মন্তব্য পরোক্ষভাবে হিংসায় মদত দিয়েছিল। পরমব্রতর করা ‘বিশ্ব রগড়ানি দিবস’ এবং স্বস্তিকার তাতে সায় দেওয়া নিয়ে যে জলঘোলা শুরু হয়েছিল, তা তিন বছর পর ফের আইনি মোড় নেওয়ায় টলিপাড়ায় নতুন করে শোরগোল পড়েছে।





