আইনি বিপাকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের বিতর্কে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল আদালত। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে পুলিশকে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের এই কড়া পদক্ষেপে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুরনো বিতর্ক, নতুন মোড়
বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী থেকে শুরু করে একাধিক ব্যক্তি বারবার দাবি করেছেন যে, রাহুল গান্ধী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। অভিযোগের মূল ভিত্তি হলো ব্রিটেনের একটি সংস্থার নথিপত্র, যেখানে রাহুল নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ভারতীয় নাগরিক বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তিনি দেশের ভোটাধিকার এবং সাংসদ হওয়ার যোগ্যতা হারান।
আদালতের নির্দেশে যা বলা হয়েছে
এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতিরা জানিয়েছেন:
বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে।
রাহুল গান্ধী তথ্য গোপন করে নির্বাচন লড়েছিলেন কি না, সেই সত্যতা উদঘাটন করতে হবে।
অস্বস্তিতে কংগ্রেস, কী বলছে শিবির?
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সরগরম দিল্লির অলিন্দ। কংগ্রেসের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাহুল গান্ধীর কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা। তাঁরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, একই অভিযোগ অতীতে সুপ্রিম কোর্ট এবং নির্বাচন কমিশন খারিজ করে দিয়েছিল। তবে এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই নতুন নির্দেশ কংগ্রেসের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
রাজনৈতিক প্রভাব
বর্তমানে সংসদে মোদী সরকারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন রাহুল গান্ধী। ঠিক এই সময়ে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে মামলার নির্দেশ তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড়সড় ধাক্কা হতে পারে। যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া থেকে শুরু করে কঠোর শাস্তি পর্যন্ত হতে পারে।
এখন সবার নজর তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকে। রাহুল গান্ধী কি পারবেন এই আইনি ফাঁস থেকে নিজেকে বের করে আনতে? উত্তর দেবে সময়।





