ঢাকার পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আদালত এই রায় প্রদান করল, যা বিচারিক ইতিহাসে দ্রুততম বিচারের এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।
রায় অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রোববার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত শিশু রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা।
গত ১৯শে মে সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় নিজেদের বাসার পাশের ফ্ল্যাট থেকে ক্ষতবিক্ষত ও খণ্ডিত অবস্থায় রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিনই নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন রাজপথে নেমে আসে।
তৎপরতার সাথে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুলিশ গত ২৪শে মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়, অন্যদিকে স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। গত পহেলা জুন অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা শুনানির শেষ দিনে আসামি সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। একইসাথে স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে তারও কঠোর শাস্তির আরজি জানান তারা। মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে শিশুটির বাবা-মায়ের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। উল্লেখ্য, ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিহত শিশুর পরিবারের সাথে দেখা করে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা আজ রায় ঘোষণার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলো।





