রাজ্যে ফের ইডি-র বড় অভিযান, ‘সোনা পাপ্পু’ কাণ্ডে ৯ জায়গায় তল্লাশিতে তোলপাড়!

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুক্রবার নতুন করে অতিসক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’ এবং কলকাতা পুলিশের ধৃত আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশাল অর্থ পাচার মামলার তদন্তে কার্যত ঝটিকা অভিযান শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মোট নয়টি ঠিকানায় আজ ভোরেই শুরু হয় তল্লাশি।

ইডি সূত্রে খবর, এই তল্লাশি অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো এই চক্রের সাথে যুক্ত আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করা এবং অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা। কলকাতা এবং মুর্শিদাবাদ—এই দুই জেলায় চালানো হচ্ছে তল্লাশি। তল্লাশি চালানো জায়গাগুলোর তালিকায় রয়েছে মহম্মদ আলি ওরফে ‘ম্যাক্স রাজু’-র বাড়ি, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ভাগ্নে সৌরভ অধিকারীর বাসভবন এবং কলকাতা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রুহিল আমিন আলির বাড়ি, যিনি শান্তনুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নিজস্ব বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।

উল্লেখ্য যে, গত ১৮ মে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর কুখ্যাত অপরাধী বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে গ্রেফতার করে ইডি। এরপর গত সপ্তাহে এই মামলার সূত্র ধরে কলকাতা পুলিশের আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে আটক করা হয়। এছাড়াও, এই একই অর্থ পাচার মামলায় গত এপ্রিল মাসে জয় এস কামদার নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় এই সংস্থাটি।

তদন্তকারীদের দাবি, সোনা পাপ্পু একজন ‘হিস্ট্রি শিটার’ বা দুর্ধর্ষ অপরাধী। তার বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে জমি দখল, তোলাবাজি সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সে এবং তার সহযোগীরা পুলিশের নজর এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। ২০১৫ সালে বালিগঞ্জ রেল ইয়ার্ডে এক ভয়াবহ হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঘটনার মাধ্যমেই প্রথমবার শিরোনামে আসে সোনা পাপ্পুর নাম। এরপর ২০১৭ সালের একটি চাঞ্চল্যকর খুনের মামলা এবং ২০২১ সালে প্রেসিডেন্সি জেলের বাইরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মুন্না পান্ডের ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় সোনা পাপ্পুর নাম জড়ায়।

ইডির আধিকারিকদের প্রাথমিক ধারণা, এই গ্যাংস্টার চক্রের সাথে রাজ্যের প্রভাবশালী এবং পুলিশ প্রশাসনের একাংশের গোপন আঁতাত রয়েছে। অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে পাচার করা হতো এবং তাতে সরকারি আধিকারিকরা কীভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করতেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আজকের এই তল্লাশি অভিযান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। এই অভিযানের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy