নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক অন্দরে ফের শুরু হয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র এক মাসের মধ্যেই নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রাজনৈতিক সমীকরণে এল বড়সড় পটপরিবর্তন। নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যপদ থেকে সস্ত্রিক ইস্তফা দিলেন পবিত্র কর এবং শিউলি কর। এই পদত্যাগের মাধ্যমে নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতে কর দম্পতির দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গত ১৫ মে নন্দীগ্রাম-২ নম্বর ব্লকের বিডিও-র কাছে পবিত্র কর এবং তাঁর স্ত্রী শিউলি কর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। ব্লক প্রশাসন তাঁদের আবেদন গ্রহণ করেছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পবিত্র কর ও শিউলি করের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্থানীয় স্তরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
পবিত্র করের রাজনৈতিক জীবন বেশ নাটকীয়। একদা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পবিত্র কর বিজেপি ছেড়ে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে জোড়াফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। তবে তার আগের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পবিত্র কর ১২ নম্বর বুথ থেকে এবং তাঁর স্ত্রী শিউলি কর ৭ নম্বর বুথ থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, শিউলি কর ওই পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্বও পালন করছিলেন।
বিজেপির টিকিটে জিতেও দীর্ঘ সময় ধরে ওই পদে বহাল থাকার জন্য তাঁদের নৈতিকতা ও আইনি জটিলতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁদের হঠাৎ পদত্যাগ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এবং নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের পর যে রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। আইনি জটিলতা এড়ানো বা রাজনৈতিক চাপের মুখেই এই পদত্যাগ বলে মনে করা হচ্ছে। আবার অনেকের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের কারণেই এই পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন এই দম্পতি। সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামের এই পালাবদল আগামী দিনের রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





