ভারতীয় টেলিভিশনের বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী দম্পতি হলেন ভারতী সিং এবং হর্ষ লিম্বাচিয়া। তাঁদের রসিকতা, প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির দক্ষতা তাঁদের কেবল দর্শকদের প্রিয় করে তোলেনি, বরং তৈরি করেছে এক বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য। টেলিভিশন শো, ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন, নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে তাঁরা আজ বিনোদন শিল্পের অন্যতম ধনী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
ভারতী সিং বর্তমানে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত মহিলা কমেডিয়ান এবং টেলিভিশন সঞ্চালক। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩০ কোটি থেকে ৮০ কোটি টাকার গণ্ডিতে পৌঁছেছে। টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো বা কমেডি শো সঞ্চালনা কিংবা পারফর্ম করার জন্য তিনি প্রতি এপিসোড পিছু ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নেন। তবে তাঁর আয়ের উৎস কেবল টিভির পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়। ভারতীর ডিজিটাল উপস্থিতিও অত্যন্ত শক্তিশালী। তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, পডকাস্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট থেকে তাঁর মোট আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পেইড প্রমোশনের মাধ্যমে তিনি প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন।
অন্যদিকে, হর্ষ লিম্বাচিয়া শুধুমাত্র ভারতীর স্বামী নন, তিনি নিজে একজন অত্যন্ত দক্ষ চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক এবং সঞ্চালক। হর্ষের মোট সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা। কমেডি ঘরানার টেলিভিশন জগতের ব্যাকবোন হিসেবে পরিচিত হর্ষ ‘কমেডি নাইটস বাঁচাও’, ‘কমেডি নাইটস লাইভ’ এবং ভারতীর সঙ্গে কাজ করা ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-এর মতো জনপ্রিয় শো-এর স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ করেছেন। তাঁর নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস ‘H3 প্রোডাকশনস’ অত্যন্ত সফলভাবে ‘খতরা খতরা খতরা’-র মতো জনপ্রিয় শো তৈরি করেছে। এছাড়াও ভারতীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ইউটিউব চ্যানেল ‘LOL (লাইফ অফ লিম্বাচিয়াস)’ তাঁদের নিয়মিত ডিজিটাল আয়ের একটি বড় উৎস।
ভারতী এবং হর্ষ দম্পতির জীবনযাত্রা ঠিক কতটা বিলাসবহুল, তা তাঁদের মুম্বইয়ের হাই-এন্ড অ্যাপার্টমেন্টটি দেখলেই বোঝা যায়। এই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটির বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। কাজের প্রতি তাঁদের একাগ্রতা এবং ব্যবসার বহুমুখীকরণ তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের মানকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। তাঁদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার প্রতিফলন দেখা যায় তাঁদের গ্যারাজেও। তাঁদের সংগ্রহে রয়েছে দামী সব গাড়ি, যার মধ্যে অডি কিউ৫ (Audi Q5), বিএমডব্লিউ এক্স৭ (BMW X7) এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ জিএল ৩৫০ (Mercedes-Benz GL 350)-এর মতো বিলাসবহুল গাড়ি উল্লেখযোগ্য। কঠোর পরিশ্রম এবং সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে ভারতী ও হর্ষ প্রমাণ করেছেন যে, বিনোদন জগতে সঠিক ব্যবসায়িক বুদ্ধি থাকলে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।





