রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে পরিবর্তন আসার পরেই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোতে বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটল নতুন সরকার। মসনদে বসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জনকল্যাণমূলক কাজে গতি আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার সেই তালিকায় সবথেকে বড় ঘোষণাটি আসতে চলেছে বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে। নবান্ন সূত্রে খবর, এই দুই প্রকল্পের ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
ভাতার পরিমাণে বড় লাফ: এতদিন পর্যন্ত রাজ্যের বয়স্ক নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা মাসে ১০০০ টাকা করে সরকারি ভাতা পেতেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি উঠছিল বিভিন্ন মহল থেকে। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েই নবগঠিত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে উপভোক্তারা মাসে ১০০০ টাকার পরিবর্তে সরাসরি ২০০০ টাকা করে পাবেন। অর্থাৎ মাসের শুরুতেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে দ্বিগুণ অর্থ।
সামাজিক সুরক্ষায় নতুন দিশা: রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতায় আসার পরেই এই পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ‘মাস্টারস্ট্রোক’। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনের পাশাপাশি রাজ্যের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। অর্থ দপ্তরের সবুজ সংকেত মিললেই আগামী মাস থেকে নতুন হারে টাকা দেওয়া শুরু হবে।
কাদের মিলবে এই সুবিধা? রাজ্য সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, যারা আগে থেকেই এই প্রকল্পের আওতায় ছিলেন, তারা তো বটেই, পাশাপাশি নতুন আবেদনকারীদের নামও দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বার্ধক্য ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে রাজ্যের লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই বাড়তি ১০০০ টাকা বয়স্ক ও অসহায় মানুষদের অনেকটা স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চললেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারের এই জনমুখী ভাবমূর্তি আগামী দিনে প্রশাসনিক স্তরে আরও কত বড় পরিবর্তন আনে, এখন সেটাই দেখার।





