রাজনীতিতে ‘শেষ কথা’ বলে যে কিছু নেই, সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে তার আরও এক নজির দেখল দেশ। মাত্র দু’মাস আগে মালদা ও মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে যে কংগ্রেসকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বিজেপির শাগরেদ’ বা ‘দালাল’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন, আজ সেই কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গেই হাসিমুখে ছবি তুললেন তৃণমূল নেত্রী।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গর্জে উঠে বলেছিলেন, “বাংলায় দুই দালাল—কংগ্রেস ও সিপিএম। এদের ক্ষমা করবেন না।” অথচ আজ দিল্লির ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সেই সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার অন্তরঙ্গ মুহূর্তই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কোণঠাসা তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই সম্ভবত এই কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও সমীকরণ সোমবার দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এই মেগা বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে মোট ২৩টি বিরোধী দল অংশ নেয়। যার মধ্যে রয়েছে সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, এনসিপি (শরদ পাওয়ার), জেএমএম, শিবসেনা (ইউবিটি) সহ বামপন্থী দলগুলিও। কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকে মমতা নিজেই বিজেপি বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। সেই আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অস্বস্তিতে জোট, ডিএমকের দূরত্ব তবে এই ঐক্যমঞ্চেও ভাঙনের সুর স্পষ্ট। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ডিএমকে কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করে বিজয়ের সঙ্গে জোট গড়েছে। ফলে আজকের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক থেকে স্ট্যালিনের দল দূরত্ব বজায় রেখেছে, যা ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।
অস্তিত্বের লড়াইয়ে মমতা বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে তৃণমূলের বিপর্যয় এবং দলের অন্দরেই বিধায়কদের একাংশের বিদ্রোহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন চাপে। একদিকে রাজ্যে বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অন্যদিকে নিজের দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ—এই জোড়া ফলার মুখে দাঁড়িয়ে দিল্লির এই জোট বৈঠক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার, সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে এই নতুন সখ্যতা তাঁর হারানো জমি পুনরুদ্ধারে কতটা সাহায্য করে।





