“যো ডর গয়্যা, ও মর গয়্যা!” ক্যামাক স্ট্রিট থেকে কমিশন ও বিজেপিকে তুলোধোনা তৃণমূলনেত্রীর!

দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে যখন গেরুয়া শিবির মাটি কামড়ে পড়ে আছে, তখন অন্যদিকে ক্যামাক স্ট্রিটের সভা থেকে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে বেনজির আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট লুটের নতুন এক ‘ভয়ঙ্কর’ ছকের আশঙ্কা প্রকাশ করে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।

“মুখোশ পরে, কম্বল মুড়ি দিয়ে ভোট লুট!”
শনিবারের জনসভা থেকে কমিশনকে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “ইভিএম যন্ত্র কেউ দখল করতে গেলে আপনাদের দেখা উচিত। আমাদের এখানে তো লোডশেডিং হয় না, তবে কেন হবে? কারেন্ট অফ করে, মুখোশ পরে, কম্বল মুড়ি দিয়ে ওরা লুট করতে যাচ্ছে।” সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিরোধীদের অন্য মতলব আছে, কিন্তু কেউ যেন সেই ফাঁদে পা না দেন।

পুলিশ ও প্রশাসনকে নিশানা
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এখানকার পুলিশের কথা আর কী বলব! বিজেপি দেখে দেখে লোক নিয়ে এসেছে, ওরা কোনও পদক্ষেপ করে না। শুধু আমাদের দলের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়।” ডিএম এবং ওসি বদল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, ৪ তারিখের পর বাইরে থেকে আসা আধিকারিকরা চলে গেলেও রাজ্য প্রশাসনই থেকে যাবে।

এনআরসি ও সেঞ্চুরির হুঙ্কার
প্রথম দফায় তৃণমূল ‘সেঞ্চুরি’ করেছে বলে দাবি করে মমতা জানান, দ্বিতীয় দফাতেও জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে। বিজেপি ভয় পেয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাচ্ছে বলে তাঁর দাবি। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিশেষ পরামর্শ— “নিজের ভোট নিজে দিন। ভোটার স্লিপ যত্ন করে রেখে দিন যাতে এনআরসি করতে না পারে।”

উন্নয়ন ও জিএসটি বিতর্ক
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। জিএসটি নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধে তিনি বলেন, “আপনারা রেস্তোরাঁয় জিএসটি দেন, কিন্তু সেই টাকা দোকানদার পায় না, চলে যায় কেন্দ্রের পকেটে।” কলকাতা ‘হেরিটেজ সিটি’ হতে চলেছে এবং ইউনেসকোর সাথে কাজ চলছে বলেও তিনি এদিন আশাপ্রকাশ করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy