বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক দু’দিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ১০০টি তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সরাসরি তদন্তভার গ্রহণ করল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। রবিবার গভীর রাতে এনআইএ-এর পক্ষ থেকে একটি এফআইআর (নং ৬২/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। এই প্রথমবার নির্বাচনের মুখে উদ্ধার হওয়া বোমা মামলার তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে নামিয়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত শনিবার ভাঙড় বিভাগের উত্তর কাশী থানা এলাকায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ দেশি বোমা এবং বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, রফিকুল ইসলাম স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী। এনআইএ-এর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং তা জনজীবনের বড়সড় ক্ষতি করতে পারত। ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩’ এবং ‘বিস্ফোরক পদার্থ আইন, ১৯০৮’-এর অধীনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনও বিস্ফোরক সংক্রান্ত মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে এনআইএ। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটের আগে অবৈধ বোমা তৈরির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে বিশেষ অভিযান শুরু করতে হবে। ২৯ এপ্রিল ভাঙড়ে ভোটগ্রহণের দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিন্দুমাত্র বিচ্যুতি ঘটলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।
প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল মিটে যাওয়ার পর আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। এই পরিস্থিতিতে ভাঙড়ে তৃণমূল কর্মীর বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার হওয়া ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ৪ মে ভোট গণনা পর্যন্ত রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে চায় কমিশন। এনআইএ-এর এই প্রবেশ ভোট-হিংসার ইতিহাসে এক নয়া মোড় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





