বাংলার ভোটযুদ্ধের আবহে এবার এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক মোড়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা কড়া সমালোচনার পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং যাদবপুরের সমর্থনে সরব হয়েছেন, সেখানে নিজের দলের সাংসদের এই বৈপরীত্যপূর্ণ মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল কয়েক গুণ।
কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী? শুক্রবার বারুইপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তোপ দাগেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, একসময়ের অত্যন্ত সম্মানজনক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে এখন দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে অরাজকতা চলছে। মোদী স্পষ্ট জানান, “আমরা অরাজকতা চাই না, শিক্ষার পরিবেশ চাই।”
বাবুল সুপ্রিয়ের বিস্ফোরক সমর্থন: প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের রেশ ধরেই বাবুল সুপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ও অতিবামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি:
যাদবপুরের কিছু ছাত্রছাত্রী আদতে “গুন্ডা”।
ক্যাম্পাসে বাম ও অতিবামপন্থীদের মদতে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছে এবং শান্ত পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।
পড়ুয়ারা পড়াশোনা ছেড়ে রাস্তায় নেমে অরাজকতা সৃষ্টি করছে।
অস্বস্তিতে তৃণমূল, আক্রমণে বিজেপি: বাবুলের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ময়দানে নেমেছে বিজেপি। বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন— মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে যাদবপুরের পড়ুয়াদের সমর্থন করছেন, তখন তাঁরই সাংসদ কেন পড়ুয়াদের ‘গুন্ডা’ বলছেন? বিজেপির একাংশের কটাক্ষ, “তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বিমুখী নীতিই প্রমাণ করে যে যাদবপুর নিয়ে মোদীর অভিযোগ কতটা সত্য।”
প্রেক্ষাপট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবাদী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ কিছু ঘটনা এবং র্যাগিং ইস্যু নিয়ে বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। এমতাবস্থায় বাবুল সুপ্রিয়ের এই মন্তব্য কি তাঁর ব্যক্তিগত মত, নাকি দলের ভেতরে কোনো বড় ফাটলের ইঙ্গিত— তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।





