দেশজুড়ে সোনার বাজার নিয়ে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। দিনকয়েক আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বছরের জন্য দেশবাসীকে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্কে (Import Duty) বড়সড় বৃদ্ধি ঘটাল কেন্দ্র। এর ফলে আকাশছোঁয়া হতে চলেছে সোনার দাম, যা কার্যত সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একলাফে অনেকটা বাড়ল শুল্ক কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর উপর আমদানি শুল্ক একধাক্কায় অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সোনার উপর আমদানি শুল্ক ছিল ৬ শতাংশ, এখন তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে মোট ১৫ শতাংশে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫ শতাংশ এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেস (AIDC) অন্তর্ভুক্ত। শুল্কের এই বিপুল বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরো বাজারে, যার ফলে প্রতি ১০ গ্রামে কয়েক হাজার টাকা দাম বাড়তে পারে।
ব্যবসায়ীদের লোকসানের আশঙ্কা, তবুও ‘দেশ আগে’ রাতারাতি দাম বাড়লে গয়না ব্যবসার লোকসানের আশঙ্কা থাকলেও, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একাংশ। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ন মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে মি. চন্দ্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার জেরে বৈদেশিক মুদ্রার (Foreign Exchange) ভাণ্ডারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, “অর্থনীতি বাঁচাতে গেলে কখনও কখনও কড়া ডোজ দিতেই হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডলার বাঁচিয়ে রাখা দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সোনার দাম বাড়লে আমাদের ব্যবসায় সমস্যা হবে ঠিকই, কিন্তু দিনের শেষে আমরা সবাই ভারতীয়। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানানো উচিত।”
কেন এই কড়া পদক্ষেপ? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক দেশ। সোনা আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেই সঞ্চয় রক্ষা করতেই সরকার আমদানিতে লাগাম টানতে চাইছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর ‘সোনা না কেনার’ অনুরোধ এবং অন্যদিকে শুল্ক বৃদ্ধি—এই জোড়া ফলায় সোনা ও রুপো কেনা এখন বিলাসিতার পর্যায়ে চলে গেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এখন দেখার, এই চড়া দামের বাজারে সাধারণ মানুষ সোনা কেনা কমিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে কতটা সাড়া দেন। তবে বিয়ের মরসুমের আগে এই মূল্যবৃদ্ধির খবরে মধ্যবিত্তের মাথায় যে চিন্তার ভাঁজ গভীর হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





