ভারতীয় রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই নাম ঘোরাফেরা করছে— প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। তাঁর লেখা আত্মজীবনী ‘ফোর স্টার ডেস্টিনি’ প্রকাশিত হওয়ার আগেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। খোদ সংসদ ভবনে রাহুল গান্ধী এই বই হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিশানা করেছেন। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের বই এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশল নিয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান।
শশী থারুরের বই থেকে অনুপ্রেরণা জেনারেল নারাভানে জানান, এই বইটিতে ২৫টি অধ্যায় রয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে স্বতন্ত্র সব গল্প। শশী থারুরের একটি বই পড়ার পরই তাঁর মাথায় আসে সামরিক বাহিনীর অজানা ও আকর্ষণীয় দিকগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার ভাবনা। তবে বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে থাকলেও নারাভানে জোর দিয়েছেন দেশের নিরাপত্তার পাঠে।
ভারত-পাক ‘প্রথম ড্রোন যুদ্ধ’ ও শিক্ষা ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে জেনারেল নারাভানে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সেটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম সত্যিকারের ‘ড্রোন যুদ্ধ’। পাকিস্তান তুরস্কের বায়রাক্তার ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টা চালালেও ভারতীয় আকাশসীমা ভেদ করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু নারাভানের মতে, ভারতকেও বসে থাকলে চলবে না। তিনি বলেন, “আগামী দিনের যুদ্ধ হবে অভাবনীয়। যে দেশ দ্রুত প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই জিতবে।”
শিল্প সক্ষমতায় বিপ্লবের ডাক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদাহরণ টেনে প্রাক্তন সেনাপ্রধান পরামর্শ দিয়েছেন যে, ভারতের প্রতিটি কারখানার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা থাকা উচিত। তাঁর সাফ কথা, “আমাদের মাসে অন্তত ৪০,০০০ ড্রোন উৎপাদন করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো যেভাবে রাতারাতি ট্যাঙ্ক ও বিমান তৈরি শুরু করেছিল, ভারতকে এখন ড্রোনের ক্ষেত্রে সেই একই নমনীয়তা ও গতি দেখাতে হবে।
অনুপ্রবেশের নতুন ছক সেনা দিবসের আগে নারাভানের নিশানায় ছিল চিন ও পাকিস্তান। তিনি সতর্ক করেছেন যে, শুধু ২০২৫ সালেই পশ্চিম সীমান্তে ৭৯০টিরও বেশি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্ত দিয়ে কয়েকশো জঙ্গি অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তির পাশাপাশি শিল্প সক্ষমতাকে যুদ্ধের প্রয়োজনে ব্যবহার করা এখন সময়ের দাবি।





