“মাইক নেই, মঞ্চ নেই”-তবুও ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে RSS!—কোন অস্ত্রে বিঁধছে ঘাসফুলকে?

হাতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ২৩ এপ্রিল বাংলার প্রথম দফার মহাযুদ্ধ। রাজপথে যখন রাজনৈতিক দলগুলির চড়া সুরের প্রচার শেষ হতে চলেছে, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে নিজেদের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। কোনও চড়া ভাষণ নয়, বরং ‘নীরব জনসংযোগ’-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের ড্রয়িংরুমে পৌঁছে গিয়েছেন সঙ্ঘের কর্মীরা।

কী এই ‘ড্রয়িংরুম বৈঠক’?

সঙ্ঘের চিরপরিচিত স্টাইল মেনেই কাজ চলছে বাংলায়। ৪-৫ জন স্বয়ংসেবকের ছোট ছোট দল তৈরি করে পাড়ায় পাড়ায় ঘরোয়া আলোচনা বা ‘ড্রয়িংরুম বৈঠক’ করা হচ্ছে। সঙ্ঘের ভাষায় এটি হলো ‘লোকমত পরিশোধন’ অভিযান।

  • ব্যাপ্তি: আড়াইশোর বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা।

  • লক্ষ্য: ভয় বা প্রলোভন ছাড়া ভোটদান এবং জনমতকে একটি নির্দিষ্ট দিকে চালিত করা।

নিশানায় ‘আরজি কর’ ও নারী সুরক্ষা

এবারের প্রচারে আরএসএস-এর প্রধান হাতিয়ার নারী সুরক্ষা। সঙ্ঘের বিলি করা লিফলেটে সরাসরি উল্লেখ করা হচ্ছে আরজি কর কাণ্ডের। পাশাপাশি দিল্লির ‘দুর্গা ব্রিগেড’ গঠনের প্রতিশ্রুতি এবং সংসদে তৃণমূলের নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতাকে ইস্যু করে নারী ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অনুপ্রবেশ ও ‘হিন্দু সঙ্কট’

বিজেপির সুরেই সঙ্ঘের কর্মীদের মুখে শোনা যাচ্ছে অনুপ্রবেশের আশঙ্কার কথা। সঙ্ঘের দাবি, অবাধ অনুপ্রবেশের ফলে রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে, যা হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য বড় সঙ্কট। এই ‘হিন্দু ঐক্য’ বজায় রাখার বার্তাই এখন গ্রাম থেকে শহরের অন্দরে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তায় ‘চোখ’ রাখছে স্বয়ংসেবকরা

শুধু প্রচার নয়, নজরদারিতেও পিছন নেই সঙ্ঘ। বুথ দখল বা নির্বাচনী হিংসা রুখতে তৃণমূল কর্মীদের গতিবিধির ওপর গোপন নজরদারি চালাচ্ছেন স্বয়ংসেবকরা। এছাড়া:

  • ডেটা সংগ্রহ: ভোটারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

  • সমন্বয়: বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও আশ্রমের সঙ্গেও সমন্বয় রক্ষা করছে আরএসএস।

১৫ বছরে বিশাল উত্থান

পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ বছরে বাংলায় আরএসএস-এর শক্তি কয়েক গুণ বেড়েছে।

  • ২০০৯-১০ সালে শাখার সংখ্যা ছিল মাত্র ৯০০

  • ২০২৬-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সেই সংখ্যা পৌঁছেছে ৪,৩০০-এ।

  • মধ্যবঙ্গেই ২০২৩ সালের তুলনায় শাখার সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫০০-র বেশি বেড়েছে।

সঙ্ঘের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক প্রচার নয়, বরং সমাজিক সচেতনতা। তবে ভোটের ঠিক একদিন আগে এই ‘নীরব বিপ্লব’ ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy