সময় বদলেছে, বদলেছে উপার্জনের মাধ্যমও। একসময় অনলাইন ইনকাম মানেই ছিল ইউটিউব বা ফেসবুকের কনটেন্ট মেকিং। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই ধারণা এখন অতীত। স্রেফ বিনোদন নয়, বরং পকেট ভর্তি টাকা উপার্জনের জন্য বাজারে এসেছে বেশ কিছু নতুন অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্ম, যা মানিটাইজেশনের ক্ষেত্রে মেটা (Meta) বা গুগলের (Google) থেকেও সহজ শর্ত দিচ্ছে।
কেন এই বদল? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামে কঠোর নিয়মাবলী এবং কড়া প্রতিযোগিতার কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে রোজগার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই সুযোগেই Kick, Snapchat Spotlight, এবং Multipl-এর মতো অ্যাপগুলি সাধারণ মানুষের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে চলে আসছে।
কোন অ্যাপে কীভাবে সুযোগ?
Kick (কিক): স্ট্রিমিং জগতে এখন কিক-এর জয়জয়কার। ইউটিউব যেখানে আয়ের বড় অংশ কেটে নেয়, সেখানে কিক দিচ্ছে প্রায় ৯৫% রেভিনিউ শেয়ার। গেমার বা লাইভ চ্যাটারদের জন্য এটি এখন সোনার খনি।
Snapchat Spotlight: ছোট ভিডিও বা স্ন্যাপ শেয়ার করে মাসে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত উপার্জনের সুযোগ দিচ্ছে স্ন্যাপচ্যাট। এর জন্য আপনাকে বড় ইনফ্লুয়েন্সার হতে হবে না, স্রেফ সৃজনশীল ভিডিওই যথেষ্ট।
Multipl ও ফিনটেক অ্যাপস: খরচ করতে করতেই উপার্জনের নতুন দিশা দেখাচ্ছে মাল্টিপল (Multipl)-এর মতো অ্যাপগুলি। আপনার অলস পড়ে থাকা টাকাকে সঠিক খাতে ব্যবহার করে রিওয়ার্ড ও ক্যাশব্যাক দেওয়ার মাধ্যমে এটি হয়ে উঠেছে প্যাসিভ ইনকামের অন্যতম সেরা মাধ্যম।
অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ও ব্র্যান্ড কোলাবরেশন: বর্তমানে ব্র্যান্ডগুলো কেবল বড় সেলিব্রিটিদের দিকে না তাকিয়ে ন্যানো ও মাইক্রো ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর ভরসা করছে। Afluencer-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি সরাসরি ব্র্যান্ডের সাথে সাধারণ ব্যবহারকারীদের যোগসূত্র করিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে খুব অল্প ফলোয়ার নিয়েও স্পনসরশিপ পাওয়া সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: স্রেফ স্ক্রল করে সময় নষ্ট না করে এই অ্যাপগুলির সঠিক ব্যবহার জানলে আপনার স্মার্টফোনটিই হয়ে উঠতে পারে উপার্জনের প্রধান হাতিয়ার। তবে যেকোনো অ্যাপে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে তার সুরক্ষা ব্যবস্থা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।





