দেশের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্ম নেওয়া প্রতীকী রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি) এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক মহলের জল্পনায় জল ঢেলে এই নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্টের পাশে দাঁড়াল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে সিজেপি-র প্রতি।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ডেরেক ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ধারাবাহিক বৈঠক হয়েছে। সেই আলোচনার নির্যাস তুলে ধরে ডেরেক লিখেছেন, “ন্যায়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মমতা ও অভিষেক দুজনেই ইস্পাত-কঠিন সংকল্পবদ্ধ।” আর এই লড়াইয়েই সিজেপি-র মতো নতুন ও ব্যাতিক্রমী ধারার রাজনৈতিক শক্তিকে পাশে পাওয়া তৃণমূলের রণকৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
কেন এই সমর্থন? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী সুর আরও জোরালো করতে চাইছে তৃণমূল। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হার এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর ব্যর্থতার পর তৃণমূলের এই নতুন রাজনৈতিক মোড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিজেপি কেবল একটি প্রতীকী দল নয়, এটি বর্তমানে দেশের বিরোধী রাজনীতির এক নতুন প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। কেবল তৃণমূল নয়, এই দলের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেতা শশী থারুর, বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীর মতো প্রথম সারির ব্যক্তিত্বরা।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপ-এর প্রাক্তন সদস্য অভিজিৎ এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালে আপ-এর সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। সিজেপি-র ঘোষিত আদর্শ হলো—’ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস’। নিট (NEET) কেলেঙ্কারির মতো ইস্যুগুলোতে প্রতিবাদে নেমে সিজেপি ইতিমধ্যেই নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে। দেশের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গড়ে ওঠা এই দল এখন যেন এক অনন্য ‘প্রতিবাদী কন্ঠস্বর’ হয়ে উঠেছে। বিরোধী শিবিরের এমন বড় অংশের সমর্থন পাওয়ায় সিজেপি-র প্রভাব আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।





