বিনোদন জগতে শোকের কালো মেঘ। না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন প্রবীণ অভিনেতা রমাকান্ত দয়ামা। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর ২৬ মে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিনেতার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর অগণিত অনুরাগী থেকে শুরু করে টলিপাড়া ও বলিউড। বছরের পর বছর ধরে একাধিক চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন শো-তে নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখে যাওয়া এই মানুষটির মৃত্যুতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হলো।
অভিনেতার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং সহ-অভিনেত্রী শুভাঙ্গী লাটকর। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি প্রিয় বন্ধুকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শুভাঙ্গী ইনস্টাগ্রামে রমাকান্তের একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে গান গাইতে ও নাচতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওর ক্যাপশনে শুভাঙ্গী লিখেছেন, “আমরা আজ একজন চমৎকার এবং প্রাণবন্ত মানুষকে হারালাম। আমি কার্যত বাকরুদ্ধ। রমাকান্তজি শুধু আমার বন্ধু বা পারিবারিক সদস্য ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার কাছে এক পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।”
রমাকান্তের ব্যক্তিত্বের বর্ণনা দিতে গিয়ে শুভাঙ্গী আরও লিখেছেন, “তিনি ছিলেন একাধারে অসাধারণ নৃত্যশিল্পী, দরদী গায়ক এবং প্রতিভাবান অভিনেতা। আমার জন্য তিনি ছিলেন একজন জ্ঞানী উপদেষ্টা। জীবনের প্রতিটি প্রতিকূলতাকে তিনি যেভাবে হাসিমুখে মোকাবিলা করতেন, তা ছিল অনুপ্রেরণার। গত কয়েক মাস ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু তাঁর মনের জোর ছিল অপরিসীম।”
একই সঙ্গে সহ-অভিনেত্রী জানান, তাঁদের বহু পরিকল্পনা অপূর্ণই থেকে গেল। শুভাঙ্গীর কথায়, “অনেক বছর পর আমি আবার তাঁর সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করেছিলাম। আমরা একটি সুন্দর হিন্দি নাটক এবং মঞ্চে কবিতা আবৃত্তির কথা ভেবেছিলাম। যখন আমি তাঁকে এ নিয়ে বলেছিলাম, তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠি।’ কিন্তু সেই স্বপ্ন আর সত্যি হলো না।”
রমাকান্ত দয়ামার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শুভাঙ্গী লিখেছেন, “কিছু মানুষ এমন এক নীরবতা রেখে যান যা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। আপনার উষ্ণতা, সাহস, শৈল্পিকতা এবং সুন্দর ব্যক্তিত্ব আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। আপনার আত্মা শান্তিতে থাকুক।” যদিও প্রবীণ এই অভিনেতার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে যে জায়গা তৈরি করেছিলেন, তা এই দুঃসময়ে তাঁর অভাব আরও প্রকট করে তুলছে। বিনোদন জগতের একটি অধ্যায়ের আজ অবসান হলো।





