মমতার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’! তৃণমূল নেত্রীর দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে কী জানাল নির্বাচন কমিশন?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরাজয়ের দায় কারচুপি ও নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার সেই সমস্ত অভিযোগকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘অসত্য’ বলে খারিজ করে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। মঙ্গলবার এক কড়া বিবৃতির মাধ্যমে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, গণনায় কোনো ত্রুটি ছিল না এবং পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল স্বচ্ছ।

নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং গণনায় কারচুপি করে তৃণমূলের ১০০টি আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি নন্দীগ্রামে তাঁর পরাজয়কেও তিনি ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

কমিশনের পালটা জবাব: নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট গণনা এবং ইভিএম (EVM) ম্যানেজমেন্ট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে সমস্ত অভিযোগ তুলেছেন তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। কমিশনের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “গণনা কেন্দ্রের প্রতিটি টেবিলে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি রাউন্ডের শেষে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে হয়েছে। ফলে এই ধরনের অভিযোগ কেবল ভিত্তিহীনই নয়, বরং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা।”

অভিযোগের ময়নাতদন্ত: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, কমিশনের মদতে অনেক জায়গায় বিজেপি জয়ী হয়েছে। এর জবাবে কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচনের পুরো দায়িত্ব পালন করেছেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের হাজার হাজার কর্মী, যাঁরা কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই কাজ করেছেন। কোনো একটি নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর হয়ে পক্ষপাতিত্ব করার কোনো সুযোগ সেখানে ছিল না।

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া: কমিশনের এই কড়া বার্তার পর রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না বলেই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করছেন।” অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে পাল্টা জানানো হয়েছে যে, তাঁরা আইনি পথেই এই লড়াই লড়বেন।

গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসবে জয়ের মুকুট যখন অন্য মাথায় উঠেছে, তখন পরাজয়ের কারণ নিয়ে এই সংঘাত নজিরবিহীন। কমিশনের এই জবাবের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy