২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে এবার ঢুকে পড়ল বাঙালির প্রিয় ‘মাছ-মাংস’। “বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে”— মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধারাবাহিক অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে এবার আসরে নামলেন সোশ্যাল মিডিয়ার সেনসেশন তথা নাগাল্যান্ডের বিজেপি মন্ত্রী তেমজেন ইমনা আলং। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তাঁর পোস্ট করা একটি ভিডিও এখন নেটপাড়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
মমতাদিদিকে তেমজেনের ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’
বিজেপি মানেই ‘নিরামিষাশী’— বিরোধীদের তৈরি করা এই ভাবমূর্তিকে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন তেমজেন। নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি, যেখানে দেখা যাচ্ছে এক থালা আমিষ পদ নিয়ে আয়েশ করে খেতে বসেছেন তিনি। ভিডিওর ক্যাপশনে বিস্ফোরক মেজাজে তেমজেন লিখেছেন:
“মমতাদিদি, আমি বিজেপির লোক। তা সত্ত্বেও আমি আমিষ খাবার খাই। এই খাবার খাওয়া আমার হবি (Hobby)!”
মাছ-ভাত নিয়ে রাজনীতির লড়াই
বাংলার ভোটের ময়দানে এবার উন্নয়ন বা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস। তৃণমূল নেত্রী লাগাতার প্রচার করছেন যে, উত্তরপ্রদেশ বা হরিয়ানার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির অনুকরণে বাংলাতেও আমিষ খাবারে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। মমতার কথায়, “বাঙালিকে বলছে মাছ খাওয়া যাবে না, ডিম খাওয়া যাবে না। তাহলে কী খাবে ওরা? আমার মাথা?”
পাল্টা চালে বিজেপি: ময়দানে অনুরাগ থেকে হিমন্ত
তৃণমূলের এই ‘ফুড পলিটিক্স’ বা খাদ্য-রাজনীতি রুখতে আটঘাঁট বেঁধে নেমেছে গেরুয়া শিবিরও।
অনুরাগ ঠাকুরের মাছ-ভাত: কলকাতায় এসে মঙ্গলবারই ঘটা করে মাছ-ভাত খেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। তাঁর দাবি, “২০টি রাজ্যে এনডিএ ক্ষমতায় আছে, কোথাও খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করা হয়নি। মমতা স্রেফ গুজব ছড়াচ্ছেন।”
আমিষ ইমেজ: নির্বাচনী প্রচারেও বিজেপি প্রার্থীদের অনেককে হাতে মাছ নিয়ে বা মাছ বাজার থেকে জনসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে, যাতে নিরামিষাশী তকমা ঝেড়ে ফেলা যায়।
কেন এই বিতর্ক?
বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ বা হরিয়ানায় নির্দিষ্ট কিছু দিনে মাংসের দোকান বন্ধ রাখা বা গোরক্ষকদের অতি-সক্রিয়তাকে হাতিয়ার করেই বাংলায় ভয় দেখানোর রাজনীতি করছে শাসক দল। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি আসা মানেই বাঙালির সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে ‘বহিরাগত’ হস্তক্ষেপ। অন্যদিকে, তেমজেন ইমনা আলং-এর মতো উত্তর-পূর্ব ভারতের হেভিওয়েট নেতার এই ভিডিও সেই বয়ানকে কতটা খণ্ডন করতে পারে, সেটাই এখন দেখার।
প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে এই ‘আমিষ-যুদ্ধ’ যে সাধারণ মানুষের ড্রয়িংরুম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।





