পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হওয়া অস্থিরতা এবার বিস্ফোরক মোড় নিল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন তৃণমূলের ২০ জন প্রবীণ ও হেভিওয়েট সাংসদ। নিউজ১৮-এর হাতে আসা একটি চাঞ্চল্যকর চিঠির বয়ান ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব (দীপক অধিকারী), রচনা ব্যানার্জী, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক এবং ইউসুফ পাঠানের মতো হাই-প্রোফাইল সাংসদরা।
সূত্রের খবর, এই বিদ্রোহীরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি চিঠি দিয়েছেন, যেখানে তাঁরা লোকসভায় আলাদা ব্লক গঠনের আর্জি জানিয়েছেন। এই চিঠির বয়ান অনুযায়ী, তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি এখন চরম অবনতির দিকে। সাংসদদের অভিযোগ, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার এবং দল—উভয় ক্ষেত্রেই বাস্তবের মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এর ফলে দলের অন্দরে দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছেছে বলে তাঁদের দাবি।
বিদ্রোহীদের নিশানায় রয়েছেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁদের অভিযোগ, অভিষেককে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী হিসেবে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা দলের প্রবীণ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। তবে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বোমাটি ফাটিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও লোকসভায় দলের চিফ হুইপের পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়োগ করার কথা বলেছিলেন, কিন্তু সেই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি লোকসভা সচিবালয়ে কখনও জমা পড়েনি। ফলে, নিয়ম অনুযায়ী কাকলি ঘোষ দস্তিদারই লোকসভায় দলের বৈধ চিফ হুইপ। এই কৌশলী অবস্থানের মাধ্যমে তাঁরা দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন বাপি হালদার, ড. শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, কালীপদ সরেন, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, মালা রায় এবং মিতালি বাগ। তাঁদের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরে যে বড়সড় ফাটল তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট। স্পিকারের কাছে এই আবেদন এনডিএ-র দিকে তৃণমূলের একগুচ্ছ সাংসদের ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।
তৃণমূলের অন্দরের এই সংকট এখন যে কোনো মুহূর্তেই একটি বড়সড় ভাঙনের রূপ নিতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





