টাটাকে ফেরাতে বদ্ধপরিকর শুভেন্দু, ‘নন্দীগ্রামের মতো গুলি নয়, শিল্প হবে সম্মানের সাথে’

রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের চর্চিত ‘জমি জট’-এর জল্পনার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে বাংলায় শিল্পায়নের পথে জমি কোনোভাবেই অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না। শিল্প আনতে গিয়ে বিগত দিনের মতো জোরজুলুম, লাঠিপেটা কিংবা গুলির প্রয়োজন নেই বলে তিনি কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে আমরা একটি আদর্শ শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলব। নন্দীগ্রাম বা সিঙ্গুরের মতো রক্তক্ষয়ী অধ্যায় আর বাংলার মাটিতে ফিরে আসবে না। বর্তমান সরকার স্বচ্ছ নীতি এবং মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে শিল্পায়ন সম্পন্ন করবে।” ১৮৯৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন মেনেই সরকার কাজ করছে এবং রেল বা বিএসএফ-এর প্রকল্পের জন্য যেভাবে মানুষ স্বেচ্ছায় জমি দিয়েছেন, সেই মডেলকেই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত সরকারের আমলে শিল্পায়নের নামে শুধুমাত্র মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং ফটো-সেশন চলেছে। লাল ফিতের ফাঁসে আটকে পড়ে রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আগের সরকারের মতো কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেব না। বেকার যুবক-যুবতীরা কর্মসংস্থান চায়, আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করছি।”

সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বড় বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের শিল্পের পরিবেশ ফেরাতে এবং টাটাদের পুনরায় পশ্চিমবঙ্গে আনতে সরকার সব ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মসংস্থানে ঘুষমুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই হবে আগামী দিনের মূল চাবিকাঠি।

আগামী ২২ তারিখের বাজেট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেখানে শিল্প সংক্রান্ত একাধিক বড় ঘোষণা থাকবে। দল-মত নির্বিশেষে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাংলাকে ‘ত্রিফলা’ শিল্পের অনুসারী করে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সরকার সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করলে মানুষ নিজেরাই উন্নয়নের স্বার্থে জমি দিতে এগিয়ে আসেন। আমাদের সরকার মানুষের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে না, বরং উন্নয়নের অংশীদার করে নিচ্ছে।”

পরিশেষে, মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, রাজ্যের মানুষ বর্তমান সরকারের উন্নয়নের মডেলকে সমর্থন করেছেন। হাসপাতাল নির্মাণ, রেলপথ সম্প্রসারণ এবং জাতীয় সড়ক উন্নয়নের মতো কাজে মানুষ নির্ধারিত মূল্যে স্বেচ্ছায় জমি দিয়ে সহযোগিতা করছেন। কোনো বন্দুকের নলের সাহায্য ছাড়াই যে রাজ্যে শিল্প আনা সম্ভব, তা কার্যত প্রমাণ করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy