বছরখানেক আগে হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার একটি ‘অদ্ভুত’ বিয়ে দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছিল গোটা দেশ। দুই সহোদর ভাই প্রদীপ নেগি এবং কপিল নেগিকে একইসঙ্গে বিয়ে করেছিলেন তরুণী সুনিতা চৌহান। সেই ভাইরাল দম্পতির কোল আলো করে এবার এল এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। গতকাল, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে এই খুশির খবর প্রকাশ্যে আসতেই ফের চর্চায় হিমাচলের সেই বিশেষ পরিবার।
কেন এই বিয়ে ছিল চর্চায়? ২০২৫ সালের জুলাই মাসে হিমাচলের আদিবাসী ‘হাটি’ (Hattee) সম্প্রদায়ের প্রাচীন প্রথা মেনে দুই ভাইকে বিয়ে করেন সুনিতা। স্থানীয় ভাষায় একে বলা হয় ‘জোড়িদারা’ (Jodidaran) বা ‘দ্রৌপদী প্রথা’। মূলত পরিবারের সম্পত্তি ভাগ হওয়া আটকাতে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতেই এই প্রাচীন জনজাতি প্রথা মেনে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। সেই সময় এই বিয়ে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় উঠলেও দম্পতি জানিয়েছিলেন, তাঁরা নিজেদের ঐতিহ্যের প্রতি গর্বিত।
নতুন অতিথির আগমন: বিয়ের প্রায় ১০ মাস পর সুনিতা কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় খুশির জোয়ার নেগি পরিবারে। দুই বাবারই আনন্দের সীমা নেই। বড় ভাই প্রদীপ নেগি বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত এবং ছোট ভাই কপিল নেগি কর্মসূত্রে বাহরাইনে থাকেন।
পিতার আবেগঘন বার্তা: সুদূর বিদেশ থেকেই মেয়ের জন্মের খবর পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন কপিল নেগি। তিনি লিখেছেন, “আজ আমাদের পরিবার পূর্ণ হলো। আমাদের ঘরে এসেছে এক মিষ্টি ছোট্ট অতিথি। এই মুহূর্তের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে মেয়েকে কোলে নিতে চাই।” গ্রামবাসীদের অভিনন্দন: হিমাচলের শিলাঁই গ্রামে প্রদীপ ও কপিলের বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ। গ্রামবাসীদের মতে, এই শিশুটি তাঁদের প্রাচীন সংস্কৃতির এক নতুন উত্তরসূরি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মা ও সন্তান দুজনেই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও প্রাচীন প্রথাকে সঙ্গী করে যে সুখে সংসার করা যায়, এই দম্পতি যেন আবারও সেই নজির গড়লেন।





