মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ‘অফার লেটার’! হরমুজ খুলে দেওয়ার শর্তে ট্রাম্পকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি ইরানের?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে শান্তির ইঙ্গিত? নাকি ঘনিয়ে আসছে আরও বড় দুর্যোগ? বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন তেহরানের পেশ করা সেই ‘তিন দফা’ ফর্মুলার দিকে, যা সরাসরি হোয়াইট হাউসের টেবিলে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এই শান্তি প্রস্তাবে জল ঢেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের সেই বিশেষ প্রস্তাব: কী আছে এতে? ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনকে ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছে, তার পরতে পরতে রয়েছে চমক। তেহরানের কৌশল খুবই স্পষ্ট— ধাপে ধাপে এগোতে চায় তারা।

  • প্রথম ধাপ (যুদ্ধ বিরতি): প্রথমেই মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ করার নিশ্চয়তা চেয়েছে ইরান। পরিষ্কার বলা হয়েছে, লেবানন ও ইরানের ওপর কোনো আগ্রাসন চলবে না।

  • দ্বিতীয় ধাপ (মুক্ত হরমুজ প্রণালী): যুদ্ধ থামলে পরবর্তী পদক্ষেপে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ওমানের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিক করার কথা বলা হয়েছে। বিশ্ব তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী এই পথটি এখন কার্যত স্থবির।

  • তৃতীয় ধাপ (পরমাণু ইস্যু): ট্রাম্প যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত, সেই পারমাণবিক কর্মসূচিকে তালিকার শেষে রেখেছে ইরান। অর্থাৎ, আগে শান্তি ও বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে, তারপরই হবে ইউরেনিয়াম নিয়ে কথা।

ট্রাম্পের ‘না’ এবং পরমাণু নিয়ে টানাটানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে খড়গহস্ত। তিনি চান আলোচনার শুরুতেই পরমাণু ইস্যু সমাধান হোক। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, হরমুজ খুলে দেওয়ার বিনিময়ে পরমাণু আলোচনা পিছিয়ে দেওয়ার এই কৌশলে তিনি যারপরনাই ক্ষুব্ধ।

মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এমন চুক্তি চাই যাতে তারা কোনোদিন পরমাণু অস্ত্র তৈরির কথা ভাবতেও না পারে।”

কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ ও পুতিনের এন্ট্রি শান্তি আলোচনার আবহ তৈরি হলেও পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল। ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করায় সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। ঠিক এই সময়েই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মস্কোয় পৌঁছে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা পশ্চিমাদের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালীতে হাহাকার সংঘাতের আগে যে হরমুজ দিয়ে দৈনিক ১০০-এর বেশি জাহাজ চলত, এখন সেখানে যাতায়াত করছে হাতে গোনা কয়েকটি ভেসেল। ইরান সাফ জানিয়েছে, অবরোধ না উঠলে জলপথের নিয়ন্ত্রণ তারা শিথিল করবে না।

এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কি ইরানের এই ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করবেন? নাকি পরমাণু ইস্যুতে অনড় থেকে মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবেন? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy