লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা। বিশেষ করে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জগদ্দলে ভোট চলাকালীন আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৩৪ নম্বর বুথ থেকে মাত্র ১২০ মিটার দূরে একটি পুকুরপাড় থেকে একটি বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, এই রাস্তা দিয়েই ভোটাররা বুথে যাচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ঠিক এই এলাকা থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। ঘটনার পিছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। পুলিশ দ্রুত অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, হাড়োয়ার দাদপুর এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) কর্মীরা রুখে দাঁড়ান এবং দুষ্কৃতীদের তাড়া করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাদপুরে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বজায় ছিল।
অশান্তির আঁচ পৌঁছেছে খানাকুলেও। রাজহাটি-১ পঞ্চায়েতের রামচন্দ্রপুরের ১৪৭ নম্বর বুথে এজেন্ট বসানোকে কেন্দ্র করে ISF এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। আইএসএফ-এর অভিযোগ, তাদের আসল এজেন্টকে রাত থেকে হুমকি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল এবং নকল ফর্ম ব্যবহার করে তৃণমূল নিজেদের লোককে আইএসএফ এজেন্ট হিসেবে বসিয়ে দিয়েছিল। খবর পেয়েই আইএসএফ প্রার্থী সশরীরে বুথে পৌঁছে সেই ভুয়ো এজেন্টকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। বুথের ঠিক বাইরেই দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দ্বিতীয় দফার ভোটে সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।





