বিয়েবাড়ির সানাইয়ের সুর যে হঠাতই এভাবে পুলিশি কোন্দল আর পঞ্চায়েতি সালিশিতে রূপ নেবে, তা হয়তো কেউই ভাবেনি। উত্তরপ্রদেশের এটায় (Etah) এক হাইভোল্টেজ বিয়েবাড়িতে ঘটল এক তাজ্জব করা কাণ্ড। মণ্ডপে ছাদনাতলায় বসার সময় বর আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তেই কনে সোজা দাবি করে বসলেন— বরের ‘মেডিকেল রিপোর্ট’ চাই! আর এই এক দাবিতেই বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে খেই হারিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হলো।
মণ্ডপে বরের পা হড়কানো এবং কনের মনে সন্দেহ
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের এটা জেলার সাকিত (Sakit) এলাকার একটি ম্যারেজ হোমে। ২৫ বছর বয়সী বর করণ সিং যখন ধুমধাম করে বরযাত্রী নিয়ে কনেপক্ষের বাড়িতে পৌঁছান, তখন প্রথম দিকে সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ‘দ্বার পূজা’র আচার অনুষ্ঠানের সময়। বিয়ের কাঠের পিঁড়িতে বসতে গিয়ে আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান বর। কেবল তাই নয়, এরপর সোজা হয়ে বসার জন্য বারবার চেষ্টা করলেও তিনি সোজা হয়ে বসতে পারছিলেন না।
এর আগের ছোটখাটো কিছু আচারের সময় বরের হাঁটাচলার সমস্যা কনেপক্ষের চোখে পড়লেও, তাঁরা প্রথমে তা সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু মণ্ডপের এই ঘটনা দেখে কনের বাড়ির লোকেদের সন্দেহ দানা বাঁধে। তাঁদের অভিযোগ, বরের একটি মারাত্মক ক্রনিক মেরুদণ্ডের রোগ (Spinal Disorder) রয়েছে, যা ঘটকালি করার সময় কনেপক্ষের কাছ থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
‘আগে মেডিকেল রিপোর্ট, তারপর বিয়ে!’ কনের অনড় সিদ্ধান্ত
বরের এই অসুস্থতা এবং রোগ লুকিয়ে রাখার বিষয়টি জানতে পেরেই ২৩ বছর বয়সী কনে ছাদনাতলায় দাঁড়িয়েই বেঁকে বসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই প্রতারণা তিনি মেনে নেবেন না। বরের শারীরিক অবস্থা ঠিক কেমন, তা জানতে অবিলম্বে চিকিৎসকের ‘মেডিকেল সার্টিফিকেট’ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে হবে। রিপোর্ট না দেখা পর্যন্ত তিনি কোনোভাবেই বিয়ের বাকি রীতিনীতিতে অংশ নেবেন না।
পঞ্চায়েতি সালিশি ও থানা-পুলিশ: কনের এই অনড় অবস্থান দেখে বরের বাড়ির লোক প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বরের বাড়ির লোকজন কনেপক্ষের দু’জনকে আটকে রেখে স্থানীয় থানায় নিয়ে গেলে গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশও। দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে তুমুল বাগবিতণ্ডা ও পঞ্চায়েত বৈঠক চলে।
শেষ পর্যন্ত ব্যারঙ ফিরল বরাত
কনেকে রাজি করানোর সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বরের শারীরিক অসুস্থতা লুকিয়ে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে কনে কোনোভাবেই তাঁর সিদ্ধান্তে বদল আনেননি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের উপস্থিতিতে এবং স্থানীয় বিশিষ্টদের হস্তক্ষেপে দুই পরিবারের মধ্যে একটি আপস-মীমাংসা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, জোর করে এই বিয়ে আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে না। উপহার এবং বিয়ের খরচের হিসেব চুকিয়ে দিয়ে কনে ছাড়াই ব্যারঙ ফিরতে বাধ্য হয় বরযাত্রীর দল। উত্তরপ্রদেশের এই ‘মেডিকেল রিপোর্ট’ কাণ্ড এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল।





