বকরিদে পশু জবাই মামলায় বড় রায়! রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট!

আসন্ন বকরিদ বা কুরবানি উৎসবের আগে রাজ্যে পশুবলি এবং গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে এক বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই ও পরিবহনের ওপর রাজ্য সরকারের জারি করা পূর্ববর্তী নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নির্দেশিকাকেই পুরোপুরি বহাল রাখল উচ্চ আদালত। একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মহামান্য আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, উৎসব পালনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার থাকলেও তা দেশের প্রচলিত আইন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের পরিপন্থী হতে পারে না।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন উৎসবে রাজ্যে বেআইনি গোহত্যা এবং প্রকাশ্য স্থানে পশুবলি রোখার দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলার শুনানির পর মাননীয় বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানান, এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের যে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা গাইডলাইন রয়েছে, তা সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।

আইন অনুযায়ী, কুরবানি ঈদে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া নিয়ম রয়েছে, যা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না। আদালত স্পষ্ট করেছে, উৎসবের পবিত্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি নাগরিক ও পরিবেশের সুরক্ষাও সমান জরুরি।

কোন কোন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে? দেখে নিন এক নজরে:

আদালতের সম্মতিতে রাজ্য সরকারের যে নিয়মগুলি কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে, সেগুলি হলো:

  • জনসমক্ষে বা প্রকাশ্য স্থানে নিষেধাজ্ঞা: কোনো অবস্থাতেই সাধারণ মানুষের চোখের সামনে, খোলা রাস্তায়, ফুটপাতে বা আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে পশু জবাই করা যাবে না।

  • লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানা বাধ্যতামূলক: পশু কুরবানি বা জবাইয়ের প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কসাইখানার (Slaughterhouse) ভেতরে চার দেওয়ালের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।

  • অবৈধ পশু পরিবহন রোধ: এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বা ভিন রাজ্য থেকে কোনো রকম লাইসেন্স বা চিকিৎসকের ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ ছাড়া বেআইনিভাবে গবাদি পশু পরিবহন করা যাবে না। পুলিশকে সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাতে হবে।

  • বর্জ্য নিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি: পশু জবাইয়ের পর তার রক্ত বা বর্জ্য পদার্থ যাতে ড্রেনে বা উন্মুক্ত স্থানে পড়ে পরিবেশ দূষণ না ঘটায়, তার জন্য পুরসভা ও পঞ্চায়েতকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশাসন ও আইনি মহলের প্রতিক্রিয়া: হাইকোর্টের এই রায়ের পর নবান্ন ও পুলিশ মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের আদালতের এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে রূপায়ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে যেমন ধর্মীয় ভাবাবেগকেও সম্মান জানানো হয়েছে, তেমনই বেআইনি গোহত্যা ও পরিবেশ দূষণ রোধে প্রশাসনের হাত আরও শক্ত হলো।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy