নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। ভোট শুরুর দু’দিন আগে থেকে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি ‘দল বেঁধে’ বা ‘বাইক মিছিল’ করতে পারবে না। বুথ দখল বা ভোটারদের ভয় দেখানোর সংস্কৃতি রুখতেই আদালত এই কড়া অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতের কড়া নির্দেশ
হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক বাহিনীর দাপাদাপি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ৩ বা তার বেশি বাইক একসাথে চলাফেরা করলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিতে পারবে। মূলত নির্বাচনের আগে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখাই এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য।
ছাড় পাবেন কারা? (নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে)
তবে আদালতের এই নির্দেশ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা হবে না। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে:
পারিবারিক সফর: পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়দের নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ বাইক ব্যবহার করতে পারবেন।
জরুরি পরিষেবা: ডাক্তার, নার্স, সংবাদমাধ্যম বা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।
কর্মক্ষেত্র: অফিস বা ব্যবসার কাজে একা অথবা নিয়ম মেনে বাইক চালানো যাবে।
কেন এই কড়াকড়ি?
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গিয়েছে, ভোটের ঠিক আগে বাইক বাহিনী নিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানোর ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়। নিরপেক্ষ ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতেই হাইকোর্ট এবং নির্বাচন কমিশন এই ‘বানিজ্যিক’ বা ‘রাজনৈতিক’ বাইক সফরের ওপর রাশ টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষ নির্দেশ: যদি কোনো বাইক আরোহীকে সন্দেহজনক মনে হয়, তবে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার এবং তল্লাশি চালানোর পূর্ণ অধিকার রাখে।





