অধীর-স্মৃতি ‘একসুরে’! মমতার বিরুদ্ধেই কি হাত মেলালেন বহরমপুরের বিদায়ী সাংসদ?

বাংলায় লোকসভা নির্বাচনের দামামা এখন তুঙ্গে। আর শেষ দফার প্রচারের প্রাক্কালে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সমীকরণ দেখল রাজ্যবাসী। কেন্দ্রীয় বাহিনী ইস্যুতে এবার কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সুরেই সুর মেলালেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে অধীরের মন্তব্যকে স্বাগত জানালেন তিনি।

অধীর বনাম মমতা: মাঝখানে স্মৃতি ইরানি

প্রথম দফার ভোট থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা নিয়ে সরব, ঠিক উল্টো পথে হেঁটেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। তিনি সাফ জানান, “ভয়হীন পরিবেশে মানুষ ভোট দিচ্ছে, এটা তো মুখ্যমন্ত্রীরই নিশ্চিত করা উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি সেই ইচ্ছা নেই?”

অধীরের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন স্মৃতি ইরানি। তিনি বলেন:

“কংগ্রেস নেতা অধীরজি আধাসেনাকে সমর্থন করেছেন এবং তাঁদের ভূমিকায় সন্তুষ্ট। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন ভয় পাচ্ছেন? অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে স্বাগত জানানোই তো একজন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান কাজ হওয়া উচিত।”

‘তৃণমূল নিজেরাই হার মেনেছে’— দাবি স্মৃতির

শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দাবি, তৃণমূলের নেতারাই নাকি এখন ঘরোয়া আলোচনায় হারের কথা স্বীকার করছেন। স্মৃতির কথায়, “প্রথম দফার পরেই তৃণমূলের নেতারা সংবাদমাধ্যমে বলছেন তাঁরা মাত্র ১৫-২০টি আসন পাবেন। ওরাই যখন নিজেদের হার নিশ্চিত মনে করছে, তখন আমাদের আর বলার কী থাকে!”

কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রশংসা

প্রথম দফার নির্বাচনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পরিকল্পনা যে সফল, তা অধীর এবং বিজেপি— উভয়েই কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন। সাধারণ মানুষ যাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তার কৃতিত্ব আধাসেনাকেই দিচ্ছেন বিরোধীরা।

ভোটের বাংলায় তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে কি তবে বাম-কংগ্রেস এবং বিজেপি অলিখিতভাবে এক মেরুতে? স্মৃতি ইরানির অধীর-বন্দনা সেই জল্পনাকেই আরও উস্কে দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy